৩ জন সাধারণ যুবক!তাদের বুদ্ধির দৌড় দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের,বিশাল পর্দা ফাঁস

সোমবার গভীর রাতে নদিয়া (Nadia) জেলার রানাঘাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম সাগর দাস, বাচ্চু ঘোষ, আকাশ নাথ। ধৃতদের মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। কিন্তু তাদের বুদ্ধির দৌড় দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের, কিভাবে একটা বড়ো চক্র তৈরি করলো তারা…

স্থানীয় সূত্রে খবর, বাগদার এক যুবতীকে বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। তাঁর কাছে একটি নকল অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার (Fake Appointment Letter) পাঠায় ওই প্রতারকরা। কাজে যোগদানের আগে ওই যুবতীর কাছ থেকে মোট ২২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। মহিলা সেটি দিয়েও দেন। পরে যে ব্যাঙ্কের নকল অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, সেই ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখেন আদৌ তাঁর সেখানে কোনো চাকরি হয়নি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কেউই অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেননি, তার বিনিময়ে কোনো অর্থ নেননি। সেই যুবতী তখন বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

এরপর যুবতী বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার (Bangaon cyber crime Cell) আধিকারিক সুদীপ্ত দে’র দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বনগাঁ সাইবার ক্রাইম শাখার পুলিশ আধিকারিকরা। তদন্ত এগিয়ে পুলিশ জানতে পারে, এর পিছনে একটা বড়সড় চক্র কাজ করছে। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্ক, প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই চক্র বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক তছরূপ করে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনকে নদীয়ার রানাঘাট থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজন রানাঘাটেরই বাসিন্দা। তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত বছরই সল্টলেকের (Saltlake) এক বাসিন্দা চাকরির নাম করে প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়েন। তিনিও চাকরির জন্যে আবেদন করেছিলেন, সেই চাকরি পাওয়ার জন্য তাঁকে প্রসেসিং ফি বাবদ ৪২ হাজার টাকা দিতে হয়। কিছুদিন পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলেও, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে, ওই মহিলা সেই বেসরকারি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন। গ্রেফতার করা হয় প্রধান অভিযুক্তকে।