ঐতিহাসিক: শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লো ভারত !

প্রথমবার অংশ নিয়েই ক্রিকেটে সোনা জিতে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মেয়েরা। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট টিম ১৯ তম এশিয়ান গেমসে সোনার মেডেল জিতে নিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাস গ্রাউন্ডে খেলা ম্যাচে ভারত শ্রীলঙ্কাকে ১৯ রানে হারিয়ে দেয়। এই ম্যাচে ১১৭ রানের টার্গেট দিয়েছিল ভারতীয় মহিলারা। এর পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে ৯৭ রানের বেশি করতে পারেনি সিংহলিজরা।আর এর সঙ্গেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরি করে ফেলল। লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

১৪ রানের মধ্যে তাঁরা ৩ টি উইকেট হারিয়ে ফেলে। ভারতীয় দ্রুতগতির বোলার বাংলার তিতাস সাধু এই ৩ টি উইকেটে দখল করে শ্রীলংকার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডটাই ভেঙ্গে দেন। ৩ উইকেট পড়ার পরে হাসিনি পেরেরা কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে দল ৫০ রানে পৌঁছতেই তিনি আউট হয়ে যান। পেরেরা ৪ টি চার এবং ১ টি ছয়ের সাহায্যে ২২ বলে ২৫ রান করেন।পেরেরা আউট হওয়ার পর নীলক্ষি ডিসিলভা এবং ঔশাদি রনসিংঘে ২৮ রানের জুটি গড়ে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। ডিসিলভাকে পূজা বস্ত্রকার বোল্ড আউট করে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান।

```

পেরেরার পর দীপ্তি শর্মা ঔশাদিকেও আউট করে দেন। এরপর ভারতের কাজ সহজ হয়ে যায়। ভারতের তরফ থেকে তিতাস সাধু ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এখানে রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় ২ টি, দীপ্তি শর্মা, দেবিকা বৈদ এবং পূজা বস্ত্রকার একটি করে উইকেট নেন। শ্রীলংকা টিম ফাইনালে হেরে রূপো জিতেছেন। এই ইভেন্টে বাংলাদেশ, পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করে।

মাত্র ১১৬ রান পুঁজি থাকলেও, এই পিচে যে ব্যাট করা সহজ নয়, তা এদিন ভারতীয় ইনিংস দেখেই বোঝা গিয়েছিল। তবে ম্যাচ জিততে কিন্তু শুরুতে উইকেট নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। ঠিক সেই কাজটাই করে দেখান বাংলার তরুণ বোলার তিতাস। তিনি মাত্র আট বলের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। একই ওভারে তিতাসের বলেই প্রথমে অনুষ্কা সঞ্জীবনি ও পরে ভিষ্মি গুণারত্নে যথাক্রমে এক ও শূন্য রানে আউট হন। লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকেও ১২ রানে ফেরান তিনিই।

```

মাত্র ১৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা দল। তবে চতুর্থ উইকেটে হাসিনি পারেইরা ও নীলাক্ষি ডি সিলভা লড়াকু ৩৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। নীলাক্ষি মন্থর গতিতে রান করলেও হাসিনিকে কিন্তু বেশ ছন্দেই দেখাচ্ছিল। হাসিনির ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফেরান রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়। ২৫ রানে আউট হন তিনি। পঞ্চম উইকেটে ওশাদি এবং নীলাক্ষিও বেশ ভালভাবেই এগোচ্ছিলেন। তবে ২৩ রানে নীলাক্ষি আউট হওয়ার পরেই শ্রীলঙ্কা আর ম্যাচে তেমন লড়াই করতে পারেনি।

ভারতী.দলের প্লেয়িং ইলেভেনস্মৃতি মান্ধানা, শেফালি ভার্মা, জেমাইমা রড্রিগেজ, হরমনপ্রীত কাউর( ক্যাপ্টেন), রিচা ঘোষ (উইকেট কিপার), দীপ্তি শর্মা, দেবিকা বৈদ, অমনজোত কাউর, পূজা বস্ত্রকার, তিতাস সাধু, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়