‘পেশোয়ারে খেলা ছিল,পেরেক ছুঁড়ে মারে,চোখের নিচে ক্ষত করে’ পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিলেন ইরফান পাঠান!

আমদাবাদে দর্শকদের ‘বিরূপ’ আচরণ নিয়ে আইসিসিকে অভিযোগ জানিয়েছে পাকিস্তান। তারইমধ্যে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিলেন ভারতের প্রাক্তন তারকা ইরফান পাঠান। তিনি জানালেন, পাকিস্তানে যখন খেলতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে গ্যালারি থেকে পেরেক ছোড়া হয়েছিল। তাঁর চোখের নীচে লেগেছিল সেই পেরেক। তার জেরে ম্যাচও থমকে ছিল। কিন্তু সেটা নিয়ে ভারতীয় দলের তরফে কোনও হইচই করা হয়নি বলে দাবি করেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার।

বৃহস্পতিবার ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচের মধ্যে ধারাভাষ্যের সময় ইরফান বলেন, ‘পেশোয়ারে (২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পেশোয়ারে প্রথম একদিনের ম্যাচ খেলেছিল ভারত) ম্যাচ হচ্ছিল। আমি খুব ভালো খেলছিলাম। স্ট্যান্ড থেকে কোনও এক সমর্থক আমার দিকে পেরেক ছুড়েছিল। যা আমার চোখের নীচে লেগেছিল। ১০ মিনিট…১০ মিনিট থমকে ছিল ম্যাচ। কিন্তু ওই বিষয়টা নিয়ে আমরা হইচই করিনি। ১০ মিনিট ম্যাচ থমকে ছিল। সবাই এসেছিলেন।’

```

সেখানেই থামেননি ইরফান। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে শার্দুল ঠাকুরের ওভারের মধ্যেই ভারতীয় দলের প্রাক্তন পেসার আরও বলেন, ‘তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ট্যুরটা ভালো যাচ্ছে। চলুক সেরকম। আমরা পাকিস্তানের আতিথেয়তার প্রশংসাই করছিলাম। আমরা সমালোচনা করিনি। কারণ আমরা জানতাম যে ওদিকে মনোযোগ দিলে (সিরিজ থেকে ফোকাস সরে যাবে)। ফ্যানেরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিলেন। আমার চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারত।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। সেই ম্যাচে পাকিস্তানের কোনও সমর্থককে কার্যত খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাঠে পুরো নীল ঢেউ উঠেছিল। তারইমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দাবি করা যায়, টসের সময় পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমকে গ্যালারি থেকে কটাক্ষ করা হয়। বিদ্রূপ উড়ে আসে। আবার গ্যালারি থেকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলা হয়।

```

আরও একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করি নি আমরা) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দাবি করা হয় যে মহম্মদ রিজওয়ানকে উদ্দেশ্য করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি অনেকে মুহাম্মদ রিজওয়ানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন যে ক্রিকেটের মাঠ কখনোই নামাজ পড়ার জায়গা নয় সুতরাং তার যদি নামাজ পড়তে ইচ্ছে হয় সে অবশ্যই মাঠের বাইরে সেটা করতেই পারে। কিন্তু খেলা চলাকালীন মাঠের মাঝে নামাজ পড়ার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। এক্ষেত্রে এই দাবিকে সমর্থন করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া।

সেই স্লোগানের প্রেক্ষিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের ছেলে তথা তামিলনাড়ুর ক্রীড়ামন্ত্রী উদয়নিধি বলেন, ‘স্পোর্টসম্যানশিপ এবং আতিথেয়তার জন্য ভারত বিখ্যাত। কিন্তু আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যেরকম আচরণ করা হল, তা একেবারে মেনে নেওয়া যায় না। চূড়ান্ত নীচে নেমে যেতে হল।’