ফুটবল বিশ্বকাপে তোলপাড়!মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিল হাঁটুর বয়সী দল!

বিশ্ব ফুটবলে এই মুহূর্তে সব থেকে বড় নাম লিও মেসি এবং রোনাল্ডো। ফুটবল ভক্তরা অপেক্ষা করে থাকেন এই দুই ফুটবল লেজেন্ডদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য, আর সেটা যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয় তাহলে আর কি চাই, কিন্তু সেই সুযোগ খুব একটা আসে না অন্তত বিশ্বকাপের ময়দানে খুব কমই আসে কারণ মেসির আর্জেন্টিনা এবং রোনাল্ডোর পর্তুগাল বিশ্বকাপের খুব একটা উপরের দিকে আসতে পারেন না, যার কারণে মন ভেঙে যায় ফুটবল ভক্তদের। বেশ কিছু বাজে ম্যাচ তারা এমন ভাবে হারেন যাতে পরবর্তী ধাপে আর তারা যেতেই পারে না আর তার শুরু করে দিল আর্জেন্টিনা একটা দুর্বল দলের কাছে পরাজিত হয়ে। যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় ফুটবল জগত।

৫১ বনাম তিনের লড়াই। মেসি-ডি মারিয়া বনাম তুলনামূলক অনামী তারকাদের লড়াই। এককথায় এ যেন ডেভিড বনাম গোলিয়াথের অতি অসম লড়াই। কিন্তু ৯০ মিনিটে যে কোনওরকম অঘটন যে সম্ভব, সেটাই প্রমাণ করে দিল সৌদি আরব। লাতিন আমেরিকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়ে রেনার্ডের ছেলেরা গোটা দুনিয়াকে যেন বার্তা দিলেন, বিশ্ব মঞ্চে কোনও দলকেই খাটো করে দেখলে চলে না। ম্যাচ শুরু হবার সাথে সাথেই নিজের জাদুতে ১০ মিনিটের মাথায় গোল করে দেন মেসি, তখনো বিষয়টা একপক্ষেই যাচ্ছিল যে আর্জেন্টিনা খুব সম্ভবত জিতে যাবে কিন্তু তারপর দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে সৌদি আরব, ওলট পালট করে দেয় ম্যাচের সমীকরণ।

মেসির শেষ বিশ্বকাপে রূপকথার কাহিনি রচনা করবে আর্জেন্টিনা। সে অপেক্ষাতেই এদিন একবুক আশা নিয়ে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই যে এমন অঘটন ঘটবে, তা হয়তো আর্জেন্টিনা দলের অতি বড় শত্রুও কল্পনা করেননি। হাফ টাইম শেষ হয় তখন আর্জেন্টিনা এক শুন্যতে এগিয়ে, দ্বিতীয় ধাপে খেলা শুরু হতে ৪৮ মিনিটের মাথায় সৌদি আরবের সালে আলসারী গোল করে দেয় এবং ১-১ বরাবর হয়ে যায় দুই দল। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি সৌদি আরবের ফুটবলাররা।

সেখানেই থেমে থাকে নি সৌদি আরব, তারা ক্রমাগত অ্যাটাক করতে থাকে, আর্জেন্টিনাকে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার একটা মুহূর্তও দেয়নি তারা। প্রথম গোল করার পাঁচ মিনিটের পরেই আবার ৫৩ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোল করে দেয় সৌদি আরবের সালেম আলাদাশরী। বিশ্বকাপের ইতিহাসে গত ৬ দশকে প্রথমে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর কখনও ম্যাচ হারেনি লা আলবেসেলেস্তা। কিন্তু এদিন পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পরও জয় উপহার দিতে ব্যর্থই হলেই মেসি।

জানিয়ে রাখবো যে বিগত বিশ্বকাপে পরাজিত হবার পর মেসি ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেন অন্তত জাতীয় স্তর থেকে তবে পরবর্তীকালে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং পুনরায় আর্জেন্টিনা দলের হয়ে খেলছেন, তবে এই বিশ্বকাপ মেসি এবং রোনাল্ডোর জীবনের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে এমনটা বলা যায়। কিন্তু জীবনের শেষ বিশ্বকাপের শুরুটা এতটা খারাপ হবে হয়তো কল্পনা করতে পারেনি লিও মেসি।