খোঁজ নেয়নি কেউ,National এ রেকর্ড করা ‘বাংলার নীরজ চোপড়া’ এখন পরিযায়ী শ্রমিক

মরচে ধরা ট্রাঙ্ক খুলতেই বেরিয়ে এল একগুচ্ছ জং-ধরা মেডেল আর স্যাঁতসেঁতে একগাদা শংসাপত্র। সবই জাতীয় স্তরের। মেডেলগুলির মধ্যে চারটি সোনার। সেগুলো জড়ো করে ধরে আক্ষেপ রিঙ্কু বর্মণের, ‘‘সোনার মূল্য কে দেবে!’সেই সোনার ছেলেই এখন আর্থিক অনটনে পরিযায়ী শ্রমিক হয়েছেন। পাশে দাঁড়াননি কেউ। খোঁজও নেননি। সাড়ে তিনশো টাকা দৈনিক রোজগারে সুদূর গুজরাতের সুরাতে এম্ব্রয়ডারির কাজ করেন তিনি।

’হরিয়ানায় ২০০৯ সালে ন্যাশনাল ইন্টার জ়োনাল জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগে ১ হাজার মিটার রিলে রেস ২ মিনিট ১.৪৯ সেকেন্ডে শেষ করে নতুন মিট রেকর্ড গড়েছিলেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের অ্যাথলিট রিঙ্কু। তার আগে পরেও জাতীয় সাফল্য রয়েছে আরও। কিন্তু খেলাধুলো ছাড়তে হয়েছে বেশ কয়েক বছর হল।

রিঙ্কুর মা আরতি জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পরে যেটুকু জমি সম্বল ছিল বিক্রি করে দিতে হয়। দুই মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবার। তাঁর কথায়, ‘‘এখন আমি লোকের জমিতে দিনমজুরি করি। রাতে ঘুমোতে গেলে ছেলেটার জন্য ছটফট করি।’’ মায়ের দু’চোখ বেয়ে জল নামে।

সেই সোনার ছেলেই এখন আর্থিক অনটনে পরিযায়ী শ্রমিক হয়েছেন। পাশে দাঁড়াননি কেউ। খোঁজও নেননি। সাড়ে তিনশো টাকা দৈনিক রোজগারে সুদূর গুজরাতের সুরাতে এম্ব্রয়ডারির কাজ করেন তিনি।

কেন রিঙ্কুদের জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থা কিছু করছে না? দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক অমিতাভ ঘোষ বলেন, ‘‘আমরা দুঃস্থ খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াই। তাঁদের চর্চা বজায় রাখার জন্য আমরা সাহায্যের হাত বাড়াই। খোঁজ নিচ্ছি।’’ প্রায় একই কথা বলেছেন জেলাশাসক আয়েশা রানি। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা রিঙ্কুর খোঁজ নিয়ে তাঁকে সাহায্যের চেষ্টা করব।’’