শ্বশুরকে ‘শাসন’ করে ঘুমোতে যেতে বলেন,ভোর রাতে যা কান্ড ঘটল!ঘুম ভাঙল পড়শিদের

প্রত্যেক রাতে মত্ত অবস্থায় বাড়িতে আসতেন। আকন্ঠ মদ্যপান যাকে বলে। বাড়িতে ছেলের বউয়ের সঙ্গে নিত্য অশান্তি হত তা নিয়ে। প্রতিবেশীরাও সে কথা জানতেন। মঙ্গলবার রাতেও তেমনটাই হয়েছিল। চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছিলেন পড়শিরা। কিন্তু রোজকার ঘটনা ভেবে আর তাতে বিশেষ আমল দেননি।

কিন্তু তারপর যখন আর্তনাদ শুনতে পান, ছুটে এসে দেখেন বাড়ির ভিতরেই দাউ দাউ করে জ্বলছেন বৃদ্ধ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার দেউলিতে। মৃত ব্যক্তির নাম পঞ্চানন সিল (৪৯)।পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের বেলদা দেউলি এলাকায় ওই ব্যক্তির বাড়ি। বুধবার ভোর রাতে বাড়ি থেকেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে পঞ্চানন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার রাতেও মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসেছিলেন পঞ্চানন। তা নিয়ে ছেলের বউয়ের সঙ্গে ঝামেলা হয়। রাতে খাবারও খান ওই ব্যক্তি। তারপর নিজের ঘরে শুতে চলে যান। কীভাবে আগুন লাগল তা বুঝতে পারছেন না বউমা। আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন নাকি কোনও দুর্ঘটনাবশত আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পঞ্চাননের বউমার সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। কীভাবে আগুন লাগল, তা জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে বেলদা থানার পুলিশ।বউমা বলেন, “আমি বকাবকি করেছিলাম, রোজ মদ খেত বলে। রাতে খেতেও দিই। তারপর ঘরে চলে যায়। কীভাবে এমন হল বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “রোজই মদ খেত আর রোজই অশান্তি হত। এদিন হঠাৎ আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনতে পাই। দৌড়ে এসে দেখি ঘরের মধ্যে জ্বলছে। কোনওক্রমে আগুন বস্তা পেঁচিয়ে নেভানো হয়। কীভাবে আগুন লেগেছে বোঝা যাচ্ছে না।”