বিশ্বকাপ ফাইনালে জোড়া রেকর্ডের মালিক মেসি, গোল করে চোখে জল ডি মারিয়ার

লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের আগে তাঁর নাম নিয়েই মেতেছিল গোটা ফুটবল দুনিয়া। মাঠে নেমে পায়ের জাদুতে বিপক্ষকে বোকা বানাবেন, গোল করবেন- এই আশাতেই টিভির সামনে বসেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। সকলের মনোবাসনা পূরণ করলেন ফুটবলের রাজপুত্র। পেনাল্টি থেকে হলেও, গোল পেলেন মেসি। ফাইনাল খেলতে নেমে একাধিক রেকর্ড ভাঙলেন। ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধ কেবল মেসিময়। তবে নজর কেড়ে নিলেন চোট সারিয়ে ফেরা অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়াও।

স্বপ্নের গোল করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বিশ্বকাপে বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা আর্জেন্টিনার বহু যুদ্ধের নায়ক।২২ মিনিটে আক্রমণে উঠে আসছিলেন ডি’মারিয়া। বক্সের মধ্যে ঢুকতেই তাঁকে অযথা ফাউল করেন ডেম্বেলে। পেনাল্টি থেকে গোলের সঙ্গে সমার্থক হয়ে গিয়েছে মেসির নাম।ফাইনালের মঞ্চেও তার অন্যথা হল না। আর্জেন্টিনার নীল সাদা জার্সিতে ৯৭তম গোল। আগেই টপকে গিয়েছিলেন বাতিস্তুতাকে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এক ডজন গোলের রেকর্ড গড়লেন লিও। টুর্নামেন্টের বিদায়ী ম্যাচে দেশের হয়ে সর্বাধিক গোল করলেন তিনি।

বিশ্বকাপে নয়া রেকর্ড গড়ার দৌড়েও এগিয়ে গেলেন। বিশ্বকাপে গোল করা ও করানো-দুই মিলিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। ২২ বার গোলের নেপথ্যে তাঁর অবদান রয়েছে। কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম গোল করার পরে মেসির নামের পাশে বসল ২১ বার গোলে সাহায্য করার রেকর্ড। ৩৬ মিনিটে ফের গোল আর্জেন্টিনার। এবার নায়কের নাম ডি’মারিয়া। ৩৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে এলেন মেসি।

খান দুয়েক পাস খেলে বল সোজা গিয়ে পড়ল ডি’মারিয়ার পায়ে। কার্যত ফাঁকা মাঠে বল নিয়ে গোলের দিকে এগোলেন মিডফিল্ডার। লরিস বুঝতেই পারেননি বল কোন দিকে যাবে। সোজা জালে বল জড়িয়ে দিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ডি’মারিয়া। চোটের জন্য মাত্র একটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন। ম্যাচ প্র্যাকটিস না থাকা সত্বেও অভিজ্ঞ সৈনিককে নামিয়ে দিলেন স্কালোনি। তাঁর ভরসার যোগ্য মর্যাদা দিলেন ডি’মারিয়া।প্রথমার্ধ জুড়ে শুধুই আর্জেন্টিনা।

জিরুর অসাধারণ একটি হেড ছাড়া ফ্রান্সের দিক থেকে সেরকম কিছুই চোখে পড়েনি। আর্জেন্টিনার বক্সে সেভাবে বল গেলই না। জিরু আর ডেম্বেলেকে তুলে নিলেন হতাশ দেশঁ। পরিবর্ত হিসাবে থুরাম ও মুয়ানি নামলেও সেরকম পার্থক্য গড়তে পারলেন না। দু’গোলে পিছিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরল ফ্রান্স।