অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ঘটল এমন বিতর্কিত ঘটনা!১৯ বছর আগে শচীনের সাথে একই অন্যায় করেন দ্রাবিড়!

২০০৪ সালের মুলতান টেস্টের স্মৃতি ফিরল সিডনিতে। ১৯ বছর পরে সচিনের মতো বঞ্চিতের তালিকায় নাম লেখালেন উসমান খোওয়াজা। ভারত-পাকিস্তান মুলতান টেস্টের পরে ক্যাপ্টেন রাহুল দ্রাবিড় সমর্থকদের ক্ষোভের আঁচ টের পেয়েছিলেন। এবার একই রকম সমালোচনার গনগনে আগুনে ঝলসানো হচ্ছে প্যাটস কামিন্সকে।

আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিডনি টেস্টে নিশ্চিত দ্বিশতরানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন উসমান খোওয়াজা। অথচ তাঁকে কেরিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার সুযোগ দিলেন না অজি দলনায়ক কামিন্স।সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা তৃতীয় টেস্টে প্রকৃতি বিস্তর বাধার সৃষ্টি করে। প্রথম দিনে বৃষ্টির জন্য খেলা হয় মোটে ৪৭ ওভার। অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটে ১৪৭ রান তোলে। দ্বিতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ১৩১ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৪৭৫ রান তোলে। উসমান খোওয়াজা নট-আউট থাকেন ১৯৫ রানে।

বৃষ্টিতে তৃতীয় দিনের খেলা ভেস্তে যায়।চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়া পুনরায় ব্যাট করতে নামলে খোওয়াজার ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে খুব বেশি সময় লাগত বলে মনে হয় না। কেননা তিনি দ্বিশতরান থেকে মাত্র ৫ রান দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অথচ সকলকে অবাক করে দিয়ে ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন নতুন করে ব্যাট করতে না নেমেই। অর্থাৎ, খোওয়াজাকে (১৯৫) দাঁড়িয়ে যেতে হয় নিশ্চিত ডাবল সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়।

ঠিক এরকম ছবিই দেখা গিয়েছিল ২০০৪ সালের ভারত-পাকিস্তান মুলতান টেস্টে। যে ম্যাচে বীরেন্দ্র সেহওয়াগ ৩০৯ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছিলেন, সেই ম্যাচেই সচিনকে নিশ্চিত দ্বিশতরান থেকে বঞ্চিত করেছিলেন ক্যাপ্টেন রাহুল দ্রাবিড়। মুলতান টেস্টের প্রথম ইনিংসে সচিন ১৯৪ রানে ব্যাট করছিলেন। ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে তাঁর দরকার ছিল মাত্র ৬ রান। অথচ দ্রাবিড় ভারতের ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেওয়ায় সেই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করা হয়নি মাস্টার ব্লাস্টারের।

স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ ক্রিকেটপ্রেমীরা বলতে শুরু করেছেন যে, এক্ষেত্রে প্যাট কামিন্স রাহুল দ্রাবিড়ের মতো কাজ করলেন এবং সচিনের মতো বঞ্চিত হলেন উসমান খোওয়াজা। অনেকেরই ধারণা, সিডনি টেস্ট ড্র হতে চলেছে। তাই উসমানকে ডাবল সেঞ্চুরি করার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল কামিন্সের।অস্ট্রেলিয়া অবশ্য ম্যাচ জিততে মরিয়া। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সস্তায় গুটিয়ে দিতে পারলে সিডনিতে জয়ের জন্য কামিন্সরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন নিশ্চিত।