বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দোরগোড়ায় ভারত, দেখে নিন সমীকরণ

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে ভারতের ব্যাপক সুবিধা করে দিয়েছে পাকিস্তান। সপ্তাহদুয়েক আগেও ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রবল দাবিদার ছিল, সেই দলই পরপর দুই টেস্টে হেরে গিয়ে কপাল পুড়িয়েছে। তাতে লাভ হয়েছে ভারতের। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের সামনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার রাস্তাটা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে।

আপাতত বিশ্ব টেস্ট চ্যম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে ভারত। হাতে পড়ে আছে মোট ছ’টি টেস্ট – দুটি টেস্ট বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, চারটি টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। ভারত যদি ওই ছ’টি টেস্টেই জিতে যায়, তাহলে প্রথম দুইয়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে শেষ করবে। অর্থাৎ ফাইনালে উঠে যাবে। কারণ ভারতের বিরুদ্ধে চারটি টেস্ট হারলে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট পার্সেন্টেজ (পিসিটি) কমবে। সেইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে একটি দল ওই পয়েন্ট পার্সেন্টেজ পেরিয়ে যেতে পারবে না।

ভারত একটি ম্যাচ হারলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যেতে পারে। যদি পাঁচটি টেস্ট জেতে এবং একটি টেস্টে হেরে যায়, তাহলে টিম ইন্ডিয়ার পিসিটি হবে ৬২.৫। সেটাই যথেষ্ট হবে। কারণ অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা – দুটি দলই (যে দুটি দল আপাতত লিগে টেবিলের শীর্ষে আছে এবং দুই দল তিন টেস্টের সিরিজ খেলবে) ভারতের সেই পিসিটি টপকাতে পারবে না। যে কোনও একটি দল পারবে। তাই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে ভারতের।

তবে ভারত যদি দুটি টেস্টে হেরে যায়, তাহলেই সমস্যা বাড়বে। সেক্ষেত্রে (চারটি টেস্টে জয় ও দুটি টেস্টে জয়) ভারতের পিসিটি দাঁড়াবে ৫৬.৯৪। তখন বাকি দলগুলির ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। নির্ভর করতে হবে অনেক হিসাব-নিকেশের উপর। সেক্ষেত্রে ভারত কী কী চাইবে, তা দেখে নিন -১) দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে পাঁচটি টেস্ট আছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন টেস্টের অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবেন ডিন এলগাররা। তারপর আগামী বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দুটি টেস্ট খেলবেন। ভারত চাইবে যে অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি টেস্টেই হেরে যাক দক্ষিণ আফ্রিকা। তাহলে প্রোটিয়াদের পিসিটি দাঁড়াবে ৫৩.৩৩ শতাংশ (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জিতলেও)। প্রথম দুইয়ে থেকে যাবে ভারত। বিশেষত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে যেহেতু চার টেস্টের সিরিজ খেলতে হবে, তাই সুরক্ষিত থাকার জন্য ভারত সেটাই চাইতে পারে।

২) শ্রীলঙ্কার সামনে ৬০ শতাংশ পিসিটি পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেজন্য নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি টেস্টই জিততে হবে। তবে শ্রীলঙ্কার পিসিটি হবে ৬১.১১ শতাংশ। অ্যাওয়ে সিরিজে শ্রীলঙ্কা একটি টেস্টেই হারলে শ্রীলঙ্কার পিসিটি ৫২.৭৮ শতাংশ হয়ে যাবে। তাই নিজেদের রাস্তা সাফ রাখতে নিদেনপক্ষ একটি টেস্টে শ্রীলঙ্কার হার চাইবে ভারত। কারণ ওই সব টেস্ট (শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ধরে) জিতলেও নিউজিল্যান্ডের পিসিটি ৫০ শতাংশ হবে না।