ঐতিসাহিক সাফল্য! ব্রিটিশদের ২০০ বছরের অত্যাচারের জবাব দিয়ে ইতিহাস গড়লো ভারত!

প্রায় ২০০ বছর ধরে ব্রিটিশরা ভারতে রাজত্ব করেছে। এই সময়কালে দেদার লুঠপাটও চালিয়েছে তারা। ব্রিটিশদের অত্যাচারে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল ভারতের গরিমা। এক প্রকার ভারতীয় অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েই তারা এই দেশ থেকে বিদায় নিয়েছিল। তাই নিঃসন্দেহে ভারতের কাছে এটি গর্বের বিষয় যারা আমাদের ভাণ্ডার শূন্য করে দেশ ছেড়েছে নিজেদের ক্ষমতায় আমরা অর্থনীতির দিক দিয়ে তাদের মাত দিয়েছি। ভারতের বিপুল ধন সম্পত্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থাপত্যও ভেঙে নিয়ে গিয়েছে তারা। বাদ দেয়নি মহা মূল্যবান কোহিনূর হিরেও।

সম্প্রতি ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্বে পঞ্চম স্থানে বিরাজ করছে। সম্প্রতি ব্লুমবার্গের রিপোর্টে উঠে এসেছে, গত ত্রৈমাসিকের হিসেবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। বর্তমানে বিশ্বের অর্থনীতির নিরিখে আমেরিকা, চিন, জাপান ও জার্মানিপর পরই নিজের জায়গা করে নিয়েছে ভারত। বর্তমানে ভারতীয় অর্থনীতি রয়েছে ৮৫৪.৭ বিলিয়ন ডলারে, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৮ লক্ষ কোটি টাকা। যেখানে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এখন দাঁড়িয়ে ৮১৬ বিলিয়ন ডলারে, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৬৫ লক্ষ কোটির কাছাকাছি। ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি গর্বের বিষয়। এককালে দীর্ঘ সময় ধরে যারা ভারতে শাসন চালিয়ে গিয়েছে তাদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে ভারত।

এই রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পর তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছিলেন, এটি বিশেষ মুহূর্ত। যারা ২৫০ বছর ধরে আমাদের শাসন করে গিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমরা তাদের পিছনে ফেলে দিয়েছি। ভারতবাসীর জন্য তা সত্যিই গর্বের বিষয়। ১৭৬৯-৭০ এর দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়েই ভারতে ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়েছিল। তারপর পরবর্তী ২০০ বছর এরকম একাধিক দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয়েছে এই দেশ। তার মধ্যে কিয়দাংশ ব্রিটিশদের তৈরি বলা যেতে পারে। কিন্তু এই লুণ্ঠন, একাধিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। পিছনে ফেলে দিয়েছে সেই দেশকে এককালে যাঁরা আমাদের উপর শোষণ চালিয়েছে।তবে ব্রিটিশদের লুঠতরাজের বিষয়ে আমাদের জ্ঞান থাকলেও যুক্তরাজ্যে এই বিষয়ে একটি মিথ রয়েছে, ভারত থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য় বড় কোনও মুনাফা পায়নি।

তাদের দাবি, উল্টে ব্রিটিশদের অর্থে ভারতের প্রশাসন চলত। তবে এই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন বিশিষ্ট ভারতীয় অর্থনীতিবিদ উষা পট্টনায়েক। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেসে প্রকাশিত তাঁর একটি গবেষণায় ব্রিটিশদেক ভারতের ধন-সম্পত্তি লুঠের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। উষা পট্টনায়েক তাঁর এই গবেষণায় প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনকালের তথ্য, কর ও বাণিজ্যের ছক বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণায় দেখা যায়, ১৭৬৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি টাকা ভারত থেকে নিজেদের পকেটে পুড়েছে ব্রিটিশরা। ভারতীয় মুদ্রায় যে অঙ্কটা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৮০ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমানে এই সংখ্য়াটা যুক্ত রাজ্যের জিডিপির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। উষা পট্টনায়েকের এই গবেষণা যুক্তরাজ্যে প্রচলিত গল্পকে ধূলিসাৎ করে সরাসরি জবাব দেয়। কিন্তু কেমন করে এই ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে গেল ব্রিটিশরা? সেখানে বিস্ময় তো থেকেই যায়।

আসলে ব্রিটিশদের এই লুণ্ঠন অনেকটা ঘুরিয়ে নাক ধরার মতো। আমাদের থেকে নেওয়া টাকাই তারা আমাদের দেওয়ার মাধ্যমে তারা দেখাতে চেয়েছে তারা এই দেশ থেকে পণ্য আমদানি করার জন্য প্রাপ্য অর্থ দিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি সেরকম একেবারেই নয়। ব্রিটিশরা যে এদেশ থেকে ৩৭৮০ লক্ষ কোটি টাকা লুঠ করেছে, তার সবটাই হয়েছে বাণিজ্য পদ্ধতির মাধ্যমে। উষা পট্টনায়েকের এই গবেষণায় বর্ণিত রয়েছে, ভারতে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসনের আগে ব্রিটেন ভারতীয়দের থেকে বস্ত্র ও চাল আমদানি করত। আর তখন রুপোর মাধ্যমে এইসব পণ্য আমদানি করা হত। তবে এই বিনিময় প্রথায় পরবির্তন আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ শুরু হওয়ার পরই। ১৭৬৫ সাল থেকেই বাণিজ্য পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত থেকে রাজস্ব আদায় শুরু করে।

সেই রাজস্বেরই এক তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যবহার করা হয় ভারতীয়দের থেকে পণ্য কেনার জন্য। অর্থাৎ, ভারতীয়দের থেকে নেওয়া টাকাই আবার ভারতীয়দের দেওয়া হত। তবে ভারতীয়রা ব্রিটিশদের এই ‘চুরির’ বাণিজ্য ধরতে পারেননি। গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে, ভারতীয়দের থেকে চুরি করা অর্থের উপর ভর করেই ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লব এসেছিল। এবার ক্রাচ হিসেবে ব্যবহার করা সেই ভারতীয়রাই ঘুরে দাঁড়ানোর অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছে এককালের স্বৈরাচারীদের। স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি।