৬ বছর বয়সে হারিয়ে ফেলেন চোখ!কঠোর পরিশ্রমে আজ হলেন দেশের প্রথম নেত্রহীন IAS অফিসার

কথায় বলে মনের দৃঢ় ইচ্ছা এবং অদম্য জেদ থাকলে জীবনের সব লক্ষ্যকেই জয় করা যেতে পারে। আর এ রকম একটি উদাহরণ সামনে উঠে এসেছে যেখানে প্রাঞ্জল নামক একটি মেয়ে কঠিন লড়াই করে দৃষ্টিশক্তি না থাকা সত্ত্বেও লড়াইয়ের ময়দান থেকে হার না মেনে আজকে তিনি হলেন দেশের প্রথম নেত্রহীন আইএএস অফিসার।

প্রাঞ্জল এর বাড়ি মহারাষ্ট্রের উল্লাস নগর এলাকাতে মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি তার চোখে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন কিন্তু তার মধ্যে ছিল হার না মানা এক অদম্য জেদ । ছ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর সকলে মনে করেছিল যে হয়তো এবার তার বাকি জীবনটা অন্ধকারে কাটবে কিন্তু সেরকমটা হতে দেননি প্রাঞ্জল। প্রথমে মাধ্যমিক তারপর উচ্চ মাধ্যমিক প্রায় 85 পার্সেন্ট নাম্বার পেয়ে তিনি এক নতুন রেকর্ড তুলে ধরেন।

মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকের পর সে যাই কলেজ জীবনে এবং সেখানে গিয়েও সে ভীষণভাবে তার পড়াশোনায় মন দেয় এবং কঠোর পরিশ্রমে দুর্দান্ত রেজাল্ট করে কলেজের ডিগ্রী হাসিল করে। কিন্তু সে এখানেই থেমে থাকতে চাইনি। কারণ তার টার্গেট ছিল অন্য কিছু। দেশের সবথেকে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে যাকে মনে করা হয় সেই ইউপিএসসি পরীক্ষাকে টার্গেট করে সে শুরু করে দেয় পড়াশোনা।

অবশেষে তার কঠোর পরিশ্রম তাকে ফল এনে দেয় এবং দেশের প্রথম নেত্রহীন আইএএস অফিসার হিসেবে তিনি ভারত সরকারের হয়ে ডিউটিতে যোগদান করেন। পড়াশোনার প্রস্তুতির জন্য তিনি এক ধরনের বিশেষ সফটওয়্যার এর ব্যবহার করেন যার দ্বারা যে সমস্ত মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন তাদের সামনে এই সফটওয়্যারটি একজন মানুষের মত বিভিন্ন বইকে পড়ে শোনাতে পারে।

এইভাবে শুনে শুনে মনে রেখে সে আইএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় এবং প্রথম চেষ্টাতেই ৭৭৩ রাঙ্ক করে সবাইকে অবাক করে দেয় এবং আজকের সফলভাবে সে ভারত সরকারের হয়ে ডিউটিতে রয়েছে তার এই লড়াই অনেক মানুষকে অনেক হেরে যাওয়া মানুষকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রেরণা যোগাচ্ছে।