“লজ্জা লাগে না তোমাদের, খেলতে পারো না আর শুধু অজুহাত” বি’স্ফোরক মন্তব্য করলেন নাসির হোসেন !

২০২৩ সালের বিশ্বকাপ অন্য বছরের থেকে বেশ কিছুটা অন্যরকম হচ্ছে তার কারণ এবার প্রত্যেক দল ওপর দলের সঙ্গে লড়াই করছে যেটা অন্য বারে গ্রুপ সিস্টেমের ক্ষেত্রে হয় না। বেশ কিছু ভালো দল রয়েছে কিন্তু তার মধ্য থেকে মাত্র চারটি দল সেমিফাইনালে উঠতে পারবে আর সেখানেই তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত কম্পিটিশন। যার জন্য ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে পাকিস্তানের মতো দলগুলি প্রত্যাশিত রেজাল্ট পাচ্ছে না, সে জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মতো দলগুলোর তো উপরে ওঠা আরো কঠিন, আর সেখানে এবার তৈরি হচ্ছে অজুহাত।

২০১৯ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড। ফাইনালে নিউজিল্যান্ড দলকে বাউন্ডারি ‘কাউন্ট’ অর্থাৎ গুনতিতে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জো রুটরা। ২০২৩ বিশ্বকাপে গত বিশ্বকাপের ধারে কাছেও পারফরম্যান্স করতে পারছেন না জোস বাটলাররা। একের পর এক ম্যাচ হেরেছেন তো বটেই, তবে হেরেছেন কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাদের শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরুর পিচে একেবারে খারাপভাবে তাদের হারতে হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। আর এবার ভারতের কাছেও লজ্জার হার প্রায় ১০০ রানের। তবে হারলেও অজুহাতের অভাব নেই যেন বেন স্টোকসদের। আর এতেই ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের উপর এবং পাশাপাশি পাকিস্তান বাংলাদেশের উপর রেগে আগুন হয়ে গিয়েছেন ইংল্যান্ড দলের প্রাক্তন অধিনায়ক নাসের হুসেন।

```

ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে স্কাই স্পোর্টসের এক আলোচনায় নাসের হুসেন বলেন, ‘আমি যেটা পছন্দ করি না সেটা হল খারাপ পারফরম্যান্সের পরেও বাজে অজুহাত দেওয়া। যেটা আমরা ইংলিশ ক্রিকেটে এখন প্রায়শই দেখতে পাচ্ছি। এরাই তো আমাদের হয়ে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জিতেছে। টি-২০ বিশ্বকাপে জিতেছে। স্বাভাবিকভাবেই এদেরকে আমাদের দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বলা যেতেই পারে। নিঃসন্দেহে তাদেরকে আমি গ্রেট ক্রিকেটার বলবই। তবে আমাদের ক্রিকেটে পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। আর সেটা রয়েছে আমাদের গ্রাসরুট পর্যায়েই।”শুধু তাই নয় এমনকি এ বছরের বিশ্বকাপে পরাজয়ের জন্য পাকিস্তান বাংলাদেশের মতো দলগুলিও অনেক অজুহাত তৈরি করছে.

তিনি আরো বলেন, “আর এটা আমাদের কাছে লজ্জার।আমরা ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলি। আমরা ১০০ বলের ক্রিকেট খেলি। কিন্তু আমরা নাম মাত্র ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলি। আর সমস্যা এখানেই।’নাসের হুসেন বলেন, ‘আমরা যদি অন্যদিকে তাকাই তাহলে দেখব বিরাট কোহলিরা কতগুলো একদিনের ম্যাচ খেলেছে বিশ্বকাপের আগে। ২২ গজে নেমে না খেললে যত অনুশীলন করা হোক না কেন সমস্যাতে পড়তেই হবে। বিরাট কোহলি, এনরিখ ক্লাসেনরা এখন ঘরোয়া ক্রিকেট যত না খেলেন তার থেকে বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলেন।

```

সারা বিশ্ব সফর করে খেলতে খেলতেই তাদের পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচয় হয়ে যায়। আমাদের দলের ক্ষেত্রে সেটাও খুব কম হয়েছে। ফলে আমাদের অনুশীলনে ঘাটতি থেকেই গিয়েছে।আর সেটার ফল আমাদেরকে চলতি ওডিআই বিশ্বকাপে ভুগতে হচ্ছে। তাই যখন তারা খেলায় বাজে পারফরম্যান্স করা শুরু করে তখন সেখান থেকে বেরনোর কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না।’

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অন্যবারের থেকে যেমন আলাদা হচ্ছে তেমনি সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই অনেকটা যেন প্রায় শেষ হয়ে গেছে নিচের সারির দলগুলোর জন্য।