আবার ব্যাট হাতে তাণ্ডব পৃথ্বী শ’ এর! মুম্বাইকে জিতিয়ে গড়লেন অনবদ্য রেকর্ড!

দেওয়াল লিখনটা পড়া যাচ্ছিল তৃতীয় দিনের শেষ বেলাতেই। প্রত্যাশা মতোই মুম্বই বনাম অসম রঞ্জি ম্যাচ একতরফাভাবে ঢলে পড়ে অজিঙ্কা রাহানেদের অনুকূলে। অসমকে তাদের ঘরের মাঠে এক ইনিংস ও ১২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে মুম্বই।সন্দেহ নেই এই ম্যাচে মুম্বইয়ের জয়ের নায়ক পৃথ্বী শ।

দুর্দান্ত ত্রিশতরান করে পৃথ্বীই মুম্বইয়ের জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করেন। আক্ষেপ শুধু এটাই যে, চারশো রানের গণ্ডি ছোঁয়ার হাতছানি ছিল পৃথ্বীর সামনে। অল্পের জন্য সেই মাইলস্টোন ছোঁয়া হয়নি মুম্বইয়ের তরুণ ওপেনারের।অবশ্য আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানেও। কেননা তাঁর সামনেও ডাবল সেঞ্চুরি করার হাতছানি ছিল। তিনি সাজঘরে ফেরেন নিশ্চিত দ্বিশতরানের দোরগোড়া থেকে। ব্যাট হাতে রিয়ান পরাগ ব্যর্থ হওয়ায় অসমের পক্ষে শার্দুলদের আক্রমণের সামনে জমাট প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

গুয়াহাটিতে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নামে মুম্বই। তারা ৪ উইকেটে ৬৮৭ রানের বিশাল ইনিংস গড়ে ব্যাট ছেড়ে দেয়। পৃথ্বী শ ৪৯টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৩৮৩ বলে ৩৭৯ রান করে আউট হন। অজিঙ্কা ১৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩০২ বলে ১৯১ রান করে মাঠ ছাড়েন।এছাড়া মুশির খান ৪২, আরমান জাফর ২৭ ও সরফরাজ খান ২৮ রানের যোগদান রাখেন। অসমের হয়ে ১৬৭ রান খরচ করে ২টি উইকেট নেন রিয়ান পরাগ।পালটা ব্যাট করতে নেমে অসম তাদের প্রথম ইনিংসে অল-আউট হয় ৩৭০ রানে। রাহুল হাজারিকা ৭৯, ঋষভ দাস ৭৫, গোকুল শর্মা ৭০, অভিষেক ঠাকুরি ৫১ ও শুভম মণ্ডল ৪০ রান করে আউট হন। রিয়ান পরাগ ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

শামস মুলানি ৪টি ও শার্দুল ঠাকুর ২টি উইকেট সংগ্রহ করেন।প্রথম ইনিংসের নিরিখে ৩১৭ রানে পিছিয়ে থাকা অসমকে ফলে-অন করায় মুম্বই। তৃতীয় দিনের শেষে অসম তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিল। তার পর থেকে খেলতে নেমে চতুর্থ তথা শেষ দিনে অসমের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১৮৯ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে অসমের হয়ে সব থেকে বেশি ৮২ রান করেন গোকুল শর্মা। রিয়ান পরাগ মাত্র ৬ রান করে আউট হন। শার্দুল দ্বিতীয় ইনিংসে মুম্বইয়ের হয়ে সব থেকে বেশি ৩টি উইকেট সংগ্রহ করেন। ইনিংসের ব্যবধানে জয়ের সুবাদে মুম্বই এই ম্যাচ থেকে বোনাস-সহ ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে।