দেশের জন্য প্রাণ দেন ভাই!বোনের মুখাগ্নি করলেন রণদীপ হুডা!কারণ জানলে অবাক হবেন

বলিউডে অভিনেতা হিসেবে তার ভীষণ নাম। তিনি নাকি খুবই বাস্তববাদী এবং ন্যাচারাল অভিনেতা। কিন্তু তার যে আরো বেশ কিছু গুণ রয়েছে এমনটা জানা গেল সদ্য একটি ঘটনায়। কয়েক বছর আগে একটি ছবি করেছিলেন রণদীপ হুডা, যার নাম ছিল সর্বজিত ( Sarabjit)। কিন্তু সেই ছবি আজকে তার জীবনে একটা অংশ হয়ে গেছে।

এই ছবিটি মূলত একজনের জীবনের উপর তৈরি যিনি বিগত অনেক বছর ধরে পাকিস্থানে একটা খুব বাজে ভাবে ফেঁসে ছিলেন। 1991 সালে তাকে গুপ্তচর তকমার দিয়ে গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল পাকিস্তানের আদালত। তার বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। তাকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে ভারত সরকার কিন্তু সম্ভব হয়নি। যদিও 2008 সালে তার প্রাণদণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করে দেয় পাকিস্তান। তবে ২০১৩ সালে জেলবন্দি অবস্থাতেই তার উপর অন্য জেলবন্দীরা আক্রমণ করলে তার মৃত্যু হয়।

তার এই জীবনের লড়াইকে সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন বলিউডের অভিনেতা রণদীপ হুডা। 2016 সালে মুক্তি পায় ছবিটি, তার অভিনয়ে এতটাই অসাধারণ ছিল যে আসল সরবজিতের দিদি দলবীর, রণদীপ হুডার মধ্যে নিজের ভাইকে দেখতে পান। তিনি অনুরোধ করেছিলেন তাঁর মৃত্যুর পর যেন তাঁর শেষকৃত্য হয় তার নতুন ভাই রণদীপের হাত দিয়েই। আর সেই মত হৃদ রোগে মৃত্যু হয় দলবিরের। আর তারপরেই..

মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সেখানে পৌঁছে যান বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুডা। নিজের সেই বোনের শেষ কৃত্য সেখানে সম্পন্ন করেন তিনি এবং মুখাগ্নি ও করেন। তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে কেন তাকে ভালবাসে তার ভক্তরা। তিনি যে কথা দিয়েছিলেন সেই কথা তিনি রাখলেন। শুধু তিনি সেখানে গেলেন তাই নয় তিনি মুখাগ্নি ও করলেন।

কয়েক বছর আগে করা প্রমিস কি রাখার জন্য দিনে মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান। বলিউডের তার কোন গডফাদার নেই কিন্তু তার সত্ত্বেও তিনি নিজের একটা আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। আর মানবিক দিক দিয়ে তিনিও সোনু সুদের থেকে খুব একটা কম যান না। আর সেই কারণেই তাকে আজকে স্যালুট জানাচ্ছে নেটিজেনরা।