‘আমাদের ছেড়ে যাবেন না, আমাদের বাঁচান’ কাতর অনুরোধ রাশিদ খানের

জন্মসূত্র থেকেই একের পর এক যুদ্ধ দেখে আসছে আফগানিস্তান। কখনোই আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি আর অতীতে কিছুটা সময়ের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও ক্ষমতালোভী কিছু মানুষের জন্য আবারো শুরু হয়েছে যুদ্ধ। আর বর্তমানে সেই যুদ্ধ চরম সীমাতে পৌঁছেছে, আফগানিস্তানের একটা বড় অংশ দখল করে ফেলেছে জঙ্গিগোষ্ঠী তালিবান। যারা প্রত্যেকদিন অসংখ্য নিরীহ আফগানদের হত্যা করছে। আর সেই আগুনে ঘি দান করেছে আমেরিকার ফিরে যাওয়া। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সামনের ভবিষ্যৎ যে খুবই ভয়াবহ তা যথেষ্ট বুঝতে পারছেন ক্রিকেটার রাশিদ খান। আর তাই তাদের দেশকে এবং আফগান জাতিকে রক্ষা করার জন্য কাতর অনুরোধ করছেন তিনি।

প্রায় কুড়ি বছর আগে তালিবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে আমেরিকা। কিন্তু এই যুদ্ধের ফলে একদিকে যেমন আমেরিকান সৈন্য শহীদ হয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে প্রচুর পরিমাণে আর্থিক খরচ এর সম্মুখীন হয়েছে আমেরিকা। আর সেই কারণে বাইডেন প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় যে আফগানিস্তান থেকে তারা ফিরে আসবে অর্থাৎ আমেরিকা আফগানিস্তানের হয়ে আর যুদ্ধ করবে না, যদিও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও একই মত ছিল। আর আমেরিকা একবার আফগানিস্তান থেকে ফিরে গেলে সেখানের সাধারণ মানুষের যে কি অবস্থা হবে সেটা মোটামুটি পরিষ্কার। তাই নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে জো বাইডেনের মত বিশ্বের বড় নেতাদের কাছে তাদের কে বাঁচানোর আরজি জানাচ্ছেন ক্রিকেটার রাশিদ খান।

রাশিদ খান জানিয়েছেন কিরকম যুদ্ধের পরিবেশে তিনি বড় হয়েছেন এবং কতটা কষ্ট করে তিনি ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটা দিন সেখানকার আফগান জনতার হত্যা করছে তালিবান আর সেই হত্যালীলা কে বন্ধ করতেই কাতর অনুরোধে রাশিদ খানের। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তারা কি সিদ্ধান্ত নেন এখন সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা ।

ভারত বরাবর আফগানিস্তানকে মিলিটারি দিক দিয়ে সাহায্য করে আসছে, এমনকি তাদের অনেক আর্মি অফিসার ভারতে বিভিন্ন প্রান্তে এসে প্রশিক্ষণ নেন, তবে ভারত যে আফগানিস্তানের হয়ে সেখানে যুদ্ধ করতে যাবে ভারতীয় আর্মিকে নিয়ে তার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারন একটা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা মানে প্রচুর বড় একটা আর্থিক ধাক্কা। তাছাড়া আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা এতটাও সহজ নয়। আজ পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী সেটা জঙ্গিগোষ্ঠী হোক অথবা কোনো সরকার কেউই পুরোপুরি আফগানিস্তানকে নিজের আয়ত্তে আনতে পারেনি।

ভারত চাইলেই পারে আমেরিকার জায়গায় গিয়ে আফগানিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, কিন্তু সেক্ষেত্রে ভারতীয় সৈন্যদের শহীদ হওয়া এবং আর্থিকভাবে ভারতের দুর্বল হয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। কারণ যুদ্ধে নামলে যে আর্থিকভাবে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়বে দেশ সেটাই স্বাভাবিক। এখন সময় বলে দেবে যে বিশ্বের বড় নেতারা কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আপনার কি মনে হয় ভারতের আফগানিস্তানকে সাহায্য করা উচিত?