ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটা, কি কি করার ক্ষমতা রয়েছে? জেনে নিন

দেশের ১৫ তম রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন দ্রৌপদী মুর্মু এবং যশবন্ত সিনহা। এনডিএ শিবিরের প্রার্থী হিসাবে দ্রৌপদী মুর্মু প্রথম থেকেই এগিয়েছিলেন। তবে বিরোধী শিবিরের প্রাপ্তি হিসেবে যশবন্ত সিনহা ময়দানে নেমে লড়াই কিছুটা হলেও জমিয়ে দেন। যদিও প্রত্যাশিত হিসাব অনুযায়ী দ্রৌপদী মুর্মুই নির্বাচিত হলেন রাষ্ট্রপতি।

ভোটের নিরিখে বিরোধী শিবিরের প্রার্থী যশবন্ত সিনহা দ্রৌপদী মুর্মুর তুলনায় অনেক পিছিয়ে পরাজিত হন। তবে বিরোধী শিবিরের তরফ থেকে প্রথম থেকেই দাবি করছেন দ্রৌপদী মুর্মু বিজেপির রাবার স্ট্যাম্প হিসাবে কাজ করবেন। ইতিহাস বলছে, এখনো পর্যন্ত দেশে যতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের অধিকাংশই কিন্তু কেন্দ্রের রাবার স্ট্যাম্প হিসাবেই কাজ করেছেন। যে যখন শাসক দলে থাকে তাদের মতোই কাজ করতে হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে।

যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা। একজন রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত থেকে শুরু করে সরকার ভেঙে দেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখেন। রাষ্ট্রপতির হাতে কি কি ক্ষমতা রয়েছে, সেই তালিকা দেখলে অবাক হবেন আপনিও। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রপতির হাতে। রাষ্ট্রপতি চাইলে যেকোন মুহূর্তে লোকসভা ভেঙ্গে দিতে পারেন। দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করে থাকেন রাষ্ট্রপতি।

এমনকি রাজ্য সরকার ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে রাষ্ট্রপতির হাতে। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, একাধিক IAS, IPS, IFS, অ্যাটর্নি জেনারেল সবই নিয়োগ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রপতির হাতে। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে দেশের তিন সেনার প্রধান। কোন দেশের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা অথবা যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। কোন দেশের সঙ্গে চুক্তিপত্র তৈরি করা হয়ে থাকে রাষ্ট্রপতির নামে। সংসদের দুই কক্ষে পাস হওয়া কোন বিল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া আইনে পরিণত হয় না। এই সকল বিল তিনি চাইলে পুনরায় সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন।

রাজ্যসভায় ১২ জন সদস্যকে মনোনীত করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা রয়েছে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার। এছাড়াও আদালত কোন দোষীকে ফাঁসির সাজা দিলে রাষ্ট্রপতি সেই ফাঁসির নির্দেশ রদ করে তাকে ক্ষমা করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা এই সকল ক্ষমতা মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষ। তবে তাহলেও রাষ্ট্রপতি যদি চান স্বতপ্রণোদিত ভাবেই জনবিরোধী কোন বিল আটকে দিতে পারেন। অথবা সরকার যদি জনবিরোধী কোনো কাজ করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।