রেল লাইনে ঝুপড়িতে থাকে,খেটে খাওয়া দুই গরীব যুবক!পাকড়াও করতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের

রেললাইনের ধারে আলাদা আলাদা ঝুপড়ি ঘরে থাকতো দুই যুবক। কেউ ঘুণাক্ষরেরও টের পায়নি ওই যুবকরা আসলে কে হতে পারে । তবে তাঁরা এলাকাবাসীর চোখে ধুলো দিয়ে থাকতে পারলেও পুলিশের চোখ এড়িয়ে বেশিদিন থাকতে পারলো না। হওড়া- বর্ধমান কর্ড শাখার ঝাপানডাঙ্গা রেল স্টেশন লাগোয়া ঝুপড়িতে হানা দিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর থানার পুলিশ। এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আসলে পুলিশ তাদের কেনো গ্রেপ্তার করলো এবং কি এমন দোষ করেছে তারা। এরপর আসল ব্যাপারটি সামনে আসে। জানা যায় যে …

বেশ কিছুদিন ধরেই জামালপুর এলাকায় ছিনতাই ও চুরি বেড়ে চলায় জামালপুর থানায় বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে। সেইসব অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছিল এলাকায় বহিরাগত কারা এসেছে । সেই সময়েই পুলিশ জামালপুরের ঝাপানডাঙ্গার কাছে ইমান হোসেন নামে একজনের খোঁজ পায় । পরে পুলিশ জানতে পারে ইমানের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগণার দত্তপুকুর থানা এলাকায়। সন্দেহ হওয়ায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু সোনা ও রূপোর গহনা, একটি মোটর সাইকেল , বেশ কিছু চোরাই ইলেকট্রনিক্সের জিনিস, ল্যাপটপ, মোবাইল উদ্ধার করে । আর তাকে…

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে ঝাপানডাঙ্গা এলাকারই তপন দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত তপনের আদি বাড়ি নদীয়া জেলার শান্তিপুর থানার বাগদিয়া গ্রামে । দু’জনেই ঝাপানডাঙ্গার রেল স্টেশনের ধারে ঝুপড়িতে থেকে অপরাধ মূলক কাজকর্ম চালাচ্ছিল । নিরীহ সেজে থাকা ঝুপড়িবাসী যুবকদের এই কীর্তির কথা জেনে স্তম্ভিত ঝাপানডাঙ্গার বাসিন্দারা । বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও ) সুপ্রভাত চক্রবর্তী জানান, ঝাপানডাঙ্গা রেল স্টেশনের ধারে ঝুপড়িতে থাকতো ইমান হোসেন মোল্লা ও তপন দাস।

সম্প্রতি জামালপুর থানার পুলিশ গোপন সূত্রে ওই যুবকদের অপরাধ মূলক কাজে জড়িত থাকার কথা জানতে পারে।ঝুপড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ প্রথমে ইমান হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ইমানের সঙ্গী হল ঝাপানডাঙ্গায় রেল লাইনের ধারে অপর ঝুপড়ি থেকে তপন দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুই ধৃতকে পুলিশি হেপাজতে নিয়ে তাঁদের ডেরায় তল্লাশি চালানো হয় ।

তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে দামী মিউজিক সিস্টেম ,কম্পিউটার সামগ্রী ,দুটি মোবাইল ফোন ,বেশ কিছু গহনা , এক রাউণ্ড কার্তুজ সহ একটি আগ্নেআস্ত্র ও একটি চোরাই মোটর বাইক। ধৃতদের অপরাধ চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত রয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে সেই বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।