রোহিত-মিলারের রেকর্ড ভেঙে ফাস্টেস্ট সেঞ্চুরি কুশলের, T20 ম্যাচে ৩০০ পার করে ইতিহাস নেপালের

চিনের জেজাং ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি ক্রিকেট ফিল্ড (Zhejiang University of Technology Cricket Field), হাংঝাউ ক্রিকেট গ্রাউন্ড (Hangzhou Cricket Ground) নামেও পরিচিত। এই মাঠের নাম জড়িয়ে গেল ইতিহাসের সঙ্গে। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখটি ‘রেড লেটার ডে’ হিসেবে লেখা থাকবে বাইশ গজে। বুধবার অর্থাৎ আজ এশিয়ান গেমসে (Asian Games Men’s Cricket Competition) ছেলেদের ক্রিকেট শুরু হল। প্রথম ম্য়াচে মুখোমুখি হয়েছিল নেপাল ও মঙ্গোলিয়া (Nepal vs Mongolia)। আর এই ম্যাচে নেপালি ব্য়াটাররা ঠিক যা যা করলেন, তা কারোর কল্পনাতেও ছিল না এর আগে।

রেকর্ডের পর রেকর্ড করে তাঁরা নতুন ক্রিকেট ইতিহাস লিখলেন। এদিন টস হেরে রোহিত পাউদেলের নেপাল ব্য়াট করতে নেমেছিল। ২০ ওভারের এই ম্য়াচে নেপাল প্রথমে ব্য়াট করে তুলেছে ৩১৪ রান। হ্য়াঁ, ঠিকই পড়েছেন কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে হয়েছে এই রান। টেস্টের ম্য়াচের প্রথম ইনিংসের স্কোর নয়। স্কোরবোর্ডই বলে দিচ্ছে যে, এর আগে বিশ্বের কোনও দেশ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এত রান করতে পারেনি। নেপালিরা বিশ্বরেকর্ড করলেন চিনে। এর আগে আফগানিস্তান ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান করেছিল।

```

আফগানিদের ছাপিয়ে গেলেন নেপালিরা। ৩১৪ রানের ইনিংসে এসেছে ২৬টি ছক্কা! এক ইনিংসে এত ছয় কোনও ফরম্য়াটের ক্রিকেট দেখেনি কখনও। আফগানিস্তানের ২৭৮ রানের ইনিংসে ছিল ২২টি ছয়। এবার আসা যাক আরও দু’টি চোখ কপালে তোলা রেকর্ডের দিকে। নেপালের অলরাউন্ডার দীপেন্দ্র সিং এদিন ৯ বলে ৫০ করেছেন। হ্যাঁ, এবারও আপনি ভুল পড়েননি। ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে যুবরাজ সিং ১২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন। দীপেন্দ্র টপকে গেলেন যুবিকে। দীপেন্দ্র ১০ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শুধু দ্রুততম ফিফটিই নয় এসেছে দ্রুততম সেঞ্চুরিও। কুশল মাল্লা এদিন ৩৪ বলে সেঞ্চুরি করেছেন। ৫০ বলে করেছেন ১৩৭। হাঁকিয়েছেন আটটি চার ও ডজন ছক্কা। রোহিত শর্মা ও ডেভিড মিলার ৩৪ বলে টি-২০ সেঞ্চুরি করেছিলেন। যুগ্মভাবে দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-২০ সেঞ্চুরির নজির ছিল রোহিত-মিলারের। এদিন তাঁদেরকে টপকেই ইতিহাস লিখলেন কুশল।

```

কুশল, রোহিত (২৭ বলে ৭১) ও দীপেন্দ্র এদিন মঙ্গোলিয়ার বোলারদের সঙ্গে ছেলেখেলা করেছেন রীতিমতো। মঙ্গোলিয়া এই রান তাড়া করতে নেমে ৪১ রানে অলআউট হয়ে যায়। নেপাল ২৭৩ রানে জেতে এই ঐতিহাসিক ম্যাচ।

সব মিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নেপাল যে আর খুব বেশি দিন প্রথম শ্রেণীর দলগুলোর থেকে পিছিয়ে থাকবে না সেই বার্তা নিজেদের পারফরমেন্স দিয়ে দিয়ে দিল নেপালের দল।