ভারত হারলেও ২য় ম্যাচেই দুরন্ত ইনিংসে ওয়ার্নার রোহিতের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন তিলক বর্মা!

তিলক বর্মা একেবারে ধামাকাদার মেজাজে রয়েছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে একটু একটু করে নিজের খোলস ছাড়ছেন তিলক। অভিষেক টি-টোয়েন্টি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ করেছিলেন। এদিনও তিনি দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানই করেন। তবে রবিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেন। সেই সঙ্গে গড়ে ফেলেন একাধিক নজির।দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তিলক বর্মা ৪১ বলে ৫১ রান করে তাঁর ব্যাটিং দক্ষতা দেখিয়েছেন। এটি তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক হাফসেঞ্চুরি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার এবং একটি ছক্কা। এই দুরন্ত ইনিংস দিয়ে বেশ কিছু রেকর্ড পেরিয়ে গেছেন তিনি।

  • ভারতের পুরুষ এবং মহিলা ক্রিকেট মিলিয়ে সবচেয়ে কম বয়সে হাফসেঞ্চুরি করার তালিকায় পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন তিলক। আর পুরুষদের তালিকায় তিনি রয়েছেন রোহিত শর্মার পর দুইয়ে।

টি-টোয়েন্টিতে কনিষ্ঠতম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে হাফসেঞ্চুরি:

  • শেফালি বর্মা- ১৫ বছর ২৮৫ দিন
  • জেমিমা রডরিগেস- ১৭ বছর ২০২ দিন
  • রোহিত শর্মা- ২০ বছর ১৪৩ দিন
  • পুনম রাউত- ২০ বছর ২০৬ দিন
  • তিলক বর্মা- ২০ বছর ২৭১ দিন

২০ বছরের তরুণ ভারতের হয়ে টানা দুই ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর করার রেকর্ড করেছেন। তিনি তাঁর অভিষেক ম্যাচে মাত্র ২২ বলে ৩৯ রান করেছিলেন। এদিন ৫১ রান করেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর প্রথম দুটি ইনিংসে তিনি ৯০ রান করে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে সূর্যকুমার যাদবের রেকর্ড তিনি ভেঙে দিয়েছেন। একজন ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম দুই ইনিংসে সর্বাধিক রানের রেকর্ড করেছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের তারকা। সূর্যকুমার যাদব প্রথম দুই ইনিংসে ৮৯ রান করেছিলেন। সেই রেকর্ডকে ছাপিয়ে যান তিলক।

```

ভারতের হয়ে প্রথম দু’টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে সর্বাধিক রান:

তিলক বর্মা- ৯০ রান, সূর্যকুমার যাদব- ৮৯ রান, মনদীপ সিং- ৮৩ রান। ভারত ৩.৩ ওভারে ১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসেছিল। সেই সময়ে তিলক বর্মা ভারতীয় ইনিংসকে ভরসা দেন। তাঁর ইনিংসের হাত ধরেই ভারত ১৫০ রানে পৌঁছয়। একেই পিচ নিয়ে সমস্যা, তার উপর ভারতের বেহাল দশা- সব চাপ সামলে তিনি হাফসেঞ্চুরি করেন। যে কারণে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষ ভাবে চিত্তাকর্ষক ছিল।

৩৯ বলে এদিন তিলক হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। তিনি শেষ পর্যন্ত আকিল হোসেনের বলে ওবেদ ম্যাকয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তিনি ছাড়া ২৭ করেছেন ইশান। ২৪ করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১৪ রান করেছেন অক্ষর প্যাটেল বাকিরা দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছতে পারেননি। ভারত ৭ উইকেটে ১৫২ রান করে। ২০২৩ সালের আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিলক বর্মা ১১ ম্যাচে প্রশংসনীয় ৩৪৩ রান করেছিলেন। ২০২২ সালে প্রথম বার আইপিএল খেলেন তিলক। তখন থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি ২৫টি ম্যাচ খেলেছেন। ৩৮.৯৫ গড়ে মোট ৭৪০ রান করেছেন। তার সর্বোচ্চ আইপিএল স্কোর অপরাজিত ৮৪।

```

তিনি এখনও পর্যন্ত তিনটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ২০২৩ আইপিএলের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি সাতটি ম্যাচ খেলেন এবং ৪৩ এর সর্বোচ্চ স্কোর সহ ১৭৪ রান করেন। এউ পারফরম্যান্সের সুবাদেই তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ভারতীয় দলে ডাক পান।