সচিনের রেকর্ড ভেঙেও হতাশ ‘চেজ মাস্টার’, ম্যাচ জিতিয়ে যে বড়ো মন্তব্য করলেন বিরাট, স্যালুট !

জৌলুস হারাতে বসেছিল টেস্ট ক্রিকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সময়ে টেস্ট কেউ দেখে! এই ফরম্যাটকে আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যোগী হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাও। ‘শুভেচ্ছাদূত’ হয়ে এগিয়ে আসেন বিরাট কোহলি। এই ফরম্যাটই যে আসল, বারবার তুলে ধরেছেন। টেস্ট খেলতে জানলে, যে কোনও পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করা যায়, চেন্নাইতে আরও একবার করে দেখালেন। বিরাট কোহলি-লোকেশ রাহুল এমন একটা সময় হাল ধরেন, যখন দলের স্কোরের চেয়ে উইকেট বেশি! প্রয়োজন ছিল একটা টেস্ট ম্যাচ ইনিংসের। নিজে খেললেন, রাহুলকেও দৌড় করালেন। গড়লেন আরও একটা রেকর্ড। এই ম্যাচের আগেও যা মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকরের দখলে ছিল।

জয়ের ভিত কি শুধু ব্যাটেই গড়েছেন? তা বলা যাবে না। শুরুটা ভুললে চলবে কী করে! টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরার বলে স্লিপে অনবদ্য ক্যাচ বিরাট কোহলির। শুধু স্লিপ বললে বোঝানো যাবে না। একমাত্র স্লিপ, তাই বিরাটকে ওয়াইড দাঁড়াতে হয়েছিল। ক্যাচটা ছিল ফার্স্ট স্লিপে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নিলেন। তাঁর ফিটনেস অনেকের কাছে উদাহরণ। ফিল্ডিংয়ে প্রতিটা মুহূর্তে তা বোঝালেন। তাঁর রানিং বিটউইন দ্য উইকেট শুধু সঙ্গীকেই নয়, চাপে রাখে প্রতিপক্ষ ফিল্ডারদেরও। এই ম্যাচে রান নেওয়ার সময় দৌড়নোর গতি সর্বোচ্চ ৩১ কিমি/ঘণ্টা!

```

রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে বিন্দু বিন্দু রান জড়ো করলেন। মাত্র ২০০ রানের লক্ষ্য। তাড়া করতে নেমে টিম ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। রাহুলের সঙ্গে ১৬৫ রানের পার্টনারশিপ বিরাট কোহলির। ৮৫ রানের ইনিংসে দলকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু ম্যাচ ফিনিশ না করতে পারার হতাশা। ড্রেসিংরুমে ফিরে মাথা চাপড়ালেন। নিজেকেই দায়ি করছিলেন, ম্যাচটা ফিনিশ করে আসা উচিত ছিল। তাঁর মতো সিনিয়র প্লেয়ারের থেকে এমনটাই প্রত্যাশিত। দল জিতল বিরাট ভিতেই।

বিরাটের আপশোস মিটল না। ততক্ষণে মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকরের আরও একটা রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। সফল রান তাড়ায় সবচেয়ে রান ছিল সচিন তেন্ডুলকরের। তিনি ৫৪৯০ রান করেছিলেন। চেজমাস্টার বিরাটের রান ৫৫১৭। সাদা বলে আরও একটা রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের দখলে। আইসিসি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি (২৭১৯) রান ছিল সচিনের। সেই রেকর্ডও ভেঙে দিলেন বিরাট।

```

ফিল্ডিং, ফিটনেস, ফিল্ডিংয়ে সতীর্থর উইকেটে নাচ, ম্যাচ ফিনিশ করতে না পায়া মাথা চাপড়ানো, এক ম্যাচে বিরাটের নানা মুহূর্ত। দিনের শেষে টিম ইন্ডিয়ার জয়, একটাই মুহূর্ত তৈরি হল। জয়ের সাফল্যে শুরু বিশ্বকাপ। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও নিখুঁত হয়ে মাঠে নামার শপথ। সেলিব্রেশনে যেন সেটাই ধরা পড়ল।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের অভিযান যে ভারতীয় দল বেশ ভালো রকম পজেটিভ ভাবে করল এই নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।