কপিল দেবকে টেনে শামিকে নিয়ে বড়ো মন্তব্য করলেন সুনিল গাভাসকর, স্যালুট নেটিজেনদের !

রবিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহম্মদ শামি ভারতের বোলিং আক্রমণকে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মা ২০২৩ আইসিসি বিশ্বকাপে ভারতকে টানা ষষ্ঠ জয় এনে দিতে একটি অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন। তারকা পেসার শামির বোলিং মাস্টারক্লাসের সঙ্গে, রোহিতের ঝলমলে নক, আইসিসি-র মেগা ইভেন্টের ২৯ নম্বর ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতকে সহজ জয় এনে দেয়। ভারতের এই জয়ের পর ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর মহম্মদ শামির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায়, বদলি হিসেবে দলে নেওয়া হয় শামিকে। আর সুযোগ পেয়েই তিনি পরপর দুই ম্যাচে পুরো আগুনে মেজাজে পারফরম্যান্স করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। সিনিয়র ফাস্ট বোলার ধর্মশালায় চলতি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম ম্যাচ খেলেন। সেই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন তিনি। এর পর লখনউয়ে স্পিডস্টার চার উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে দেন।

```

২০২৩ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে ভারত ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর ইন্ডিয়া টুডে-র সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, ব্যাটিং কিংবদন্তি গাভাসকর ভারতীয় দলে শামির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে তাঁর মতামত শেয়ার করেছেন। তিনি কিংবদন্তি অলরাউন্ডার কপিল দেবের সঙ্গে শামির তুলনা টেনেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই পারফরম্যান্স করতে অনেক কঠোর পরিশ্রম দরকার। যখন ও বাড়ি ফিরে যায়, তখন ওর বাড়ির ওখানে কয়েকটি পিচ তৈরি করা রয়েছে। এবং ও সেখানে শুধু বোলিং করতে থাকে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ। ও ওর ব্যক্তিগত ক্রিকেটিং ফিটনেসের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর বিশেষত্ব?

তিনি আরো বলেন, ‘এটা ফাস্ট বোলিং। ও যেখানে থাকে, সেখানে নেটে বেশ কিছু ওভার বোলিং করে। আমি জানি না, ও কতটা জিম যায়, বা জিমে যেতে কতটা পছন্দে করে। কিন্তু দিনের শেষে… মহম্মদ শামি ঠিক তাই করছে, যা কপিল দেব করত, নেটে শুধু বোলিং করে যাওয়া। জাস্ট বোলিং এবং বোলিং।’লখনউতে ভারত এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে কম স্কোরিং ম্যাচে জনি বেয়ারস্টো (১৪), বেন স্টোকস (০) এবং মইন আলির (১৫) মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন শামি। তিনি ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে তাঁর ষষ্ঠ চার উইকেট নিয়েছেন রবিবার। তিনি আদিল রশিদকেও ফেরান।

```

একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চার উইকেট নিয়েছেন ভারতের শামি (৬) এবং অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক (৬)। লখনউতে ভারতের ২৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ৩৪.৫ ওভারে ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় এবং ম্যাচটি ১০০ রানে ব্রিটিশরা হেরে যায়। এবং এই জয়ের হাত ধরে টিম ইন্ডিয়া আইসিসি বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবলের শীর্ষস্থান ফের পুনরুদ্ধার করে।

গাভাসকর আরও যোগ করেছেন, ‘ও বায়ো-মেট্রিক বিশেষজ্ঞদের কথা শোনে না, যারা সব সময়ো বলে নেটে মাত্র ১৫-২০টি করে বল করতে। ও জানে যে, একজন ফাস্ট বোলার হিসাবে ওর পায়ে বেশি মাইলেজ দরকার। এই কারণে ওর বোলিংয়ে রয়েছে ছন্দ। যখন ও বোলিং করতে দৌড়ায় এবং ড্রোন ক্যামেরা তার রান আপ ক্যাপচার করে, তখন মনে হয় চিতাবাঘ শিকারে যাচ্ছে। এটা দেখতে চমৎকার লাগে।’