সেঞ্চুরি মিস হলেও দুরন্ত ইনিংসে শচীনের সবথেকে বড় রেকর্ড ভেঙে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বিরাট কোহলি !

শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সপ্তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় দল। এই ম্যাচটি ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণেই ছিল যে এই ম্যাচে জয়লাভের পর ভারতীয় দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অফিশিয়ালি নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল। তার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকাকে পিছনে পেলে বর্তমানে বিশ্বকাপের টেবিলে টিম ইন্ডিয়া প্রথম স্থানে রয়েছে। এই ম্যাচের রেজাল্টের কথা যদি বলতে হয় তাহলে যেটা এক্সপেক্ট করা যেতে পারে ভারত শ্রীলংকা ম্যাচে আজকেও ঠিক সেরকমটাই হয়েছে, তবে আজকের ম্যাচে অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখা গেছে ভারতীয় দলের ব্যাটসম্যান এবং বোলারদের তরফ থেকে।

ভারতীয় দলের বোলাররা যেভাবে বোলিং এর শুরুটা করেছিলেন সেটা তো অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য তবে রোহিত শর্মা আউট হয়ে যাবার পরে ভারতীয় দলকে ৩৫৮ রান পর্যন্ত নিয়ে যেতে সব থেকে বেশি যে দায়িত্বপূর্ণ ইনিংসটি খেলছেন সেটি বিরাট কোহলি। বিরাট কোহলি আজকে তার জীবনের ৪৯ তম সেঞ্চুরিটি সম্পন্ন করতেই পারতেন কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত আর হয়ে ওঠেনি বিরাট কোহলি কে আউট হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে প্যাভিলিয়নে ৮০ এর ঘরেই। রোহিত শর্মা ম্যাচের দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে ফিরে যাওয়ার পরে ভারতীয় দলের তরফ থেকে ৯২ বলে ৯২ রান করেছেন গিল এবং ৯৪ বলে ৮৮ রান করেছেন বিরাট কোহলি এবং তাদের দুজনের মধ্যে ১৮৯ রানের একটি দুরন্ত পার্টনারশিপ হয়েছে। এই ম্যাচে শচীনের সেঞ্চুরির রেকর্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারলেও একটি দুরন্ত বিশ্ব রেকর্ড করেছেন এবং শচীনকে পিছনে ফেলেছেন বিরাট কোহলি।

```

এই ম্যাচের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো বিরাট কোহলি এই ম্যাচে কোনো ছক্কা হাকান নি এবং গ্রাউন্ড শর্ট খেলেছেন অধিকাংশ। এবং এই ম্যাচে তিনি ১১ টি বাউন্ডারি মেরেছেন। তার প্রধান কারণ মূলত গত ম্যাচে বিরাট কোহলি তুলে মারতে গিয়েই ক্যাচ আউট হয়েছিলেন আর সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ম্যাচে তিনি দায়িত্ব সহকারে সবগুলি শর্ট নিচে খেলেছেন।বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে এক ক্যালেন্ডার বছরে ১০০০ রান পূর্ণ করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক কোহলি। কোহলি তাঁর ক্যারিয়ারে অষ্টম বারের মতো এক বছরে ১০০০ রান করার মাইলস্টোন স্পর্শ করলেন। ভারতের কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে সাত বার এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে ১০০০ রান করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। সেই রেকর্ড সচিনের ঘরের মাঠেই তাঁর সামনেই ভেঙে দিলেন বিরাট কোহলি।

কোহলি ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ১০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের পর ২০২৩ সালেও হাজার বা তার বেশি রান করার অসাধারণ একটি মাইলস্টোন স্পর্শ করেছেন। আর সচিন ১৯৯৪, ১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮, ২০০০, ২০০৩, ২০০৭- এই সাত বার ১০০০ রানের মাইলস্টোন স্পর্শ করেছেন। এছাড়াও কোহলিই একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দশটি সেঞ্চুরি করেছেন। ওয়ানডেতে যে কোনও দলের বিপক্ষে যে কোনও ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে এটি রেকর্ড হয়ে রয়েছে। তবে এদিন কোহলি ৮৮ করে আউট হয়ে যান। ১২ রানের জন্য মিস করেন আরও একটি সেঞ্চুরি।

```

১৯৯৮ সালে এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড এখনও সচিন তেন্ডুলকরের দখলেই রয়েছে। সেই বছর সচিন ১৮৯৪ রান করেছিলেন। এই রেকর্ড এখনও অক্ষুন্ন রয়েছে। কোনও ব্যাটার আপাতত ভাঙতে পারেননি। কোহলি ওডিআই ক্রিকেটে তার ১১৮তম হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুর্দান্ত এক বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। নন-ওপেনার হিসাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব থেকে বেশি বার ব্যক্তিগত ৫০ রানের গণ্ডি টপকানোর নিরিখে কুমার সঙ্গাকারার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন বিরাট। সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরি মিলিয়ে ওয়ান ডে বিশ্বকাপে মোট ১৩ বার ব্যক্তিগত ৫০ রানের গণ্ডি টপকান কোহলি। তিনি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেন ৩টি এবং হাফ-সেঞ্চুরি করেন ১০টি।

ওপেন না করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সাঙ্গাকারা ওয়ান ডে বিশ্বকাপে মোট ১২ বার ব্যক্তিগত ৫০ রানের গণ্ডি টপকান। সাঙ্গা বিশ্বকাপের ৩৫টি ইনিংসে ব্যাট করে ৫টি সেঞ্চুরি ও ৭টি হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন। কোহলি ৩৩টি ইনিংসে ব্যাট করে সাঙ্গাকারার রেকর্ড ভেঙে দেন। বিশ্বকাপে সব থেকে বেশিবার ব্যক্তিগত ৫০ রানের গণ্ডি টপকানোর রেকর্ড রয়েছে সচিনের নামে। তেন্ডুলকর বিশ্বকাপের ৪৪টি ইনিংসে ব্যাট করে মোট ২১ বার ৫০ টপকেছেন। তিনি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেছেন ৬টি এবং হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন ১৫টি। যদিও সচিন ওপেনার হিসাবেও বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছেন।