গিলের মতোই ১১ বছর আগে এশিয়া কাপেই সচিনের স্লো ইনিংসে পরাজিত হয় ভারত, জানুন সেই কাহিনী

ভারতীয় দলের তরফ থেকে আজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের সুপার ফোর এর নিয়ম রক্ষার ম্যাচে একটি অনবদ্য সেঞ্চুরি করেছেন ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শুভমন গিল। কিন্তু তার প্রশংসার পরিবর্তে সমালোচনা বেশি হচ্ছে তার কারণ, চিনি অনেক বল খেলেছেন এবং অনেক বেশি নষ্ট করেছেন। আর ক্রিকেট ভক্তদের দাবি তিনি এই সমস্ত কিছু করেছেন যাতে তিনি সেঞ্চুরিটি সম্পন্ন করতে পারেন। তার এই ইনিংসকে সেলফিশ ইনিংস declare করেছে সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এরকম একটি ইনিংস খেলেছিলেন মহান শচীন তেন্ডুলকারও।

আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগে ২০১২ সালের এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং বাংলাদেশ। সেবারের অনবদ্য ম্যাচটিতে শচীন তেন্ডুলকার একটি ভীষণ শ্লো ইনিংস খেলেছিলেন এবং জীবনের ১০০ তম সেঞ্চুরি তিনি সম্পূর্ণ করেছিলেন। তার সেই ইনিংসটি ছিল ১৪৭ বলে ১১৪ রানের, আর সেই নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয় তার। ভারত বাংলাদেশের সেই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ভারতীয় দল ২৮৯ রান করে, আপাতদৃষ্টিতে এই রান বড় মনে হলেও সেদিনের সেই পিচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারত অন্তত কুড়ি থেকে ৩০ রান কম করেছিল। শচীনের ১৪৭ টি বল খেলার অর্থ, ৫০ ওভারে তিনশটি বলের মধ্যে প্রায় অর্ধেক তিনি একাই খেলেছেন অথচ রান করেছেন ১১৪, যা মোট রান ২৮৯ এর প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ। এত স্লো ইনিংস সত্ত্বেও ভারতীয় দল সেদিন ২৮৯ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল শুধুমাত্র বিরাট কোহলি এবং সুরেশ রানের জন্য।

```

৮২ বলে ৬৬ রান করেন বিরাট কোহলি এবং 38 বলে 51 রান করে সুরেশ রায়না। তারা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও ভারতীয় দলকে ৩০০ রানের ওই পারে নিয়ে যেতে পারেনি। আর বলা চলে সেই কারণেই এই ম্যাচে ভারত জয়লাভ করতে পারেনি এবং এর কারণ স্বরূপ ক্রিকেট ভক্তরা সচিন তেন্ডুলকারকে দায়ী করেন যে তিনি ভীষণ স্লো একটি ইনিংস খেলেছিলেন জীবনের ১০০ তম সেঞ্চুরিটি সম্পন্ন করার জন্য। রবি শাস্ত্রীও কমেন্ট্রিতে শচীনের এই ইনিংসের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

২০১২ সালের সেই ম্যাচটিতে ভারতীয় দলের খুব বেশি উইকেট পড়েনি তার সত্ত্বেও শচীন ধীরে-ধীরে খেলেছিলেন, আর এদিকে ভারতীয় দল ২৬৬ রানের তাড়া করতে নেমে ১৩০ রানের মধ্যেই অর্ধেক টিম প্যাভিলিয়নের ফিরে যায় সেক্ষেত্রে শুভমান গিলের ধীরে খেলার একটা কারণ অবশ্যই রয়েছে, তাছাড়া এটাও দেখতে হবে মাত্র ১৭ রানের মাথায় দুটি উইকেট হারায় ভারত তখন তাকে পার্টনারশিপ করতেই হতো।

```

একইভাবে ৮০ রানের মাথাতেও ভারত চারটি উইকেট হারিয়ে ফেলে অর্থাৎ ভারতীয় দল কখনোই চাপের মুখ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি আর যেহেতু শুভমান পিচের উপর ছিলেন তাই তাকে অতিরিক্ত বল খেলে ডিফেন্স করে নিজের উইকেটটি বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছে যাতে পরে তিনি রান করতে পারেন।

বাংলাদেশের তরফ থেকে তামিম ইকবালের ৭০, মুশফিকুর রহিমের ৪৬, সাকিব আল হাসানের ৪৯ এবং নাসির হোসেনের ৫৪ রানের অনবদ্য ইনিংস ভারতীয় দলকে এই ম্যাচে পরাজিত করে। শুভমান গিল আজকে যে ধরনের ইনিংস খেলেছেন তাতে শচীনের সেই ইনিংসটির সাথেই তাকে তুলনা করা হচ্ছে যেটিকে একটি স্বার্থপর ইনিংস হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।।