ধংসাত্মক সেঞ্চুরিতে সচিন তেন্ডুলকরের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন বিরাট কোহলি !

ব্যাটে লেখা ‘রান মেশিন’। এখন আর হাফসেঞ্চুরি করলে তাঁকে নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। হবেই বা কেন? বিরাট কোহলি নিজের মান সে ভাবেই সেট করে রেখেছেন। সেঞ্চুরি ছাড়া বাকি সব ইনিংসই যেন ব্যর্থ! কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রিজার্ভ ডে-তে তাঁর ব্যাটে হাফসেঞ্চুরি। ব্যাটটা শুধু তুলে ধরলেন ডাগআউট এবং তারপর গ্যালারির দিকে। অপেক্ষা শুরু হয় সেঞ্চুরির। হাফসেঞ্চুরি পেরোতেই ইনসাইড আউটে অনবদ্য একটা বাউন্ডারি বিরাটের ব্যাটে। কিছু পর ইফতিকার আহমেদের বোলিংয়ে স্টেপ আউট করে মিড উইকেটে একটা বিশাল ছয়। বিরাটের হাসিই বলে দিচ্ছিল, মিশন-এ নেমেছেন রানমেশিন। অবশেষে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছলেন ৮৪ বলে। সঙ্গে আরও একটা মাইলফলক।

কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে শতরান করার পথে দুর্দান্ত এক বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেন বিরাট কোহলি। তিনি ভেঙে দেন কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের সর্বকালীন নজির। মাস্টার ব্লাস্টারকে টপকাতে বিরাটের প্রয়োজন ছিল ৯৮ রান, যা তিনি অনায়াসে সংগ্রহ করে নেন। আসলে বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ১৩ হাজার ওয়ান ডে রানের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেন বিরাট কোহলি। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন কেবল সচিন তেন্ডুলকর, কুমার সাঙ্গাকারা, রিকি পন্টিং ও সনৎ জয়সূর্য। বিরাট কোহলি ২৭৮টি ওয়ান ডে ম্যাচের ২৬৭টি ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে এই মাইলস্টোন টপকে যান।

```

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সোমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শতরান করার পথে কোহলি দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ান ডে ক্রিকেটে ১৩ হাজার রান পূর্ণ করেন। এতদিন সব থেকে কম ইনিংসে ব্যাট করে ১৩ হাজার ওয়ান ডে রান করার বিশ্বরেকর্ড ছিল সচিনের নামে। তিনি ৩২১টি ইনিংসে ব্যাট করে এই মাইলস্টোন টপকান। সচিনের তুলনায় অনেক কম ইনিংসেই সেই কৃতিত্ব অর্জন করকেন কোহলি।

সব থেকে কম ইনিংসে ১৩ হাজার ওয়ান ডে রান করা ব্যাটসম্যানরা:-

```
  • ১. বিরাট কোহলি (ভারত)- ২৬৭টি ইনিংসে।
  • ২. সচিন তেন্ডুলকর (ভারত)- ৩২১টি ইনিংসে।
  • ৩. রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া)- ৩৪১টি ইনিংসে।
  • ৪. কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)- ৩৬৩টি ইনিংসে।
  • ৫. সনৎ জয়সূর্য (শ্রীলঙ্কা)- ৪১৬টি ইনিংসে।

সামান্য চোট থাকায় হ্যারিস রউফকে রিজার্ভ ডে-তে বোলিং না করানোর সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। বিশ্বকাপের আগে ঝুঁকি না নিতেই এমন সিদ্ধান্ত। তাঁকে আউট করার মরিয়া চেষ্টা হবে সেটাই স্বাভাবিক। নাসিম শাহর লেগ সাইডের ডেলিভারি। রিজওয়ানের হাতে পৌঁছতেই আবেদন। আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানি সাড়া দেননি। বিরাট উইকেটের প্রত্যাশায় রিভিউ নেয় পাকিস্তান। পুরো স্টেডিয়াম সাইলেন্ট মোডে। সাউন্ড এলেও সেটা থাইপ্যাডে বল লাগার। বাকি থাকা একটি রিভিউও নষ্ট নয় পাকিস্তানের। নাসিম শাহর অফস্টাম্পের বাইরের একটা ডেলিভারি, শেষ মুহূর্তে ছেড়ে দিতে সক্ষম। এগুলো যেন বিরাটের ফোকাসের স্তর বুঝিয়ে দেয়। সেই নাসিম শাহকেই স্ট্রেট বাউন্ডারিতে পরিচিত সেই ছয় মারলেন বিরাট। ঠিক যেমন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্নে হ্যারিস রউফের বোলিংয়ে মেরেছিলেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ম্যাচের দাপুটে শতরানের পথে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০০ রানের মাইলস্টোন টপকে যান বিরাট। তিনি সার্বিকভাবে ওয়ান ডে ক্রিকেট সব থেকে বেশি রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন।