‘নিয়মিত সুযোগ পান না দলে” প্রশ্ন করতেই বি’স্ফোরক মন্তব্য করলেন শামি, স্যালুট নেটিজেনদের!

শুক্রবার মোহালিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ওডিআই-এ মহম্মদ শামি তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ওডিআই পরিসংখ্যান ৫/৫১ নথিভুক্ত করেছেন। ১৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও ভারতীয় পেসার ঘরের মাঠে ওয়ানডে ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির গড়লেন। শেষ বার ২০০৭ সালে জহির খান শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই মাইস্টোন স্পর্শ করেছিলেন।মজার ব্যাপার হল, এশিয়া কাপের ফাইনালের হিরো মহম্মদ সিরাজকে যদি বিশ্রাম না দেওয়া হত, তবে শামি সম্ভবত একাদশে থাকতেন না।

প্লেয়িং ইলেভেনে নিয়মিত না হওয়ার বিষয়ে তাঁর চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, ম্যাচ পরবর্তী সংবাদিক সম্মেলনে শামি বলেছেন, ‘এটি খেলারই একটি অংশ। দলের চাহিদা বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা সম্ভব নয় যে, সব সময়ে প্লেয়িং ইলেভেন এবং টিম কম্বিনেশনের অংশ থাকবেন আপনি। আমরা যখন নিয়মিত খেলি, তখন কেউ না কেউ বাইরে থাকে। এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনও মানে নেই। একাদশে সুযোগ পেলে নিঃসন্দেহে ভালো বিষয়। কিন্তু বেঞ্চে থাকার কারণ বোঝাটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।’তারকা ফাস্ট বোলারের দুর্দান্ত স্পেলে প্রথমে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ২৭৬ রানে অলআউট করে দেয় ভারত।

```

তার পর শুভমন গিল, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, অধিনায়ক কেএল রাহুল এবং সূর্যকুমার যাদবের হাফসেঞ্চুরির হাত ধরে ৫ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় টিম ইন্ডিয়া। আর এই জয়ের হাত ধরে আইসিসি ওডিআই র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানকে নীচে নামিয়ে শীর্ষে স্থান দখল করেছে ভারত।বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ভারত বারবার তাদের বোলারদের বিশ্রাম দিয়ে আসছে। হার্দিক পান্ডিয়া এবং কুলদীপ যাদবকে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজের প্রথম দু’টি ম্যাচের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। সিরাজ আবার প্রথম ওডিআই খেলেননি।

যদিও কিছু সমালোচক বিশ্বকাপের এত কাছাকাছি খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া এবং পরীক্ষানিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শামি ম্যানেজমেন্টের নীতিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, এতে বোলাররা নিশ্চিত ভাবেই উপকৃত হবেন। শামির দামি, ‘টিম ম্যানেজমেন্টের নীতি হল, পরিস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের উপর নির্ভর করে প্লেয়ার ঘুরিয়েফিরিয়ে খেলানো। তারা জানে কী ভাবে এটি পরিচালনা করতে হয় এবং আপনি যদি দেখেন, সাম্প্রতিক ফলাফলগুলিও বেশ ভালো হয়েছে। আমি মনে করি না, বিশ্বকাপের আগে কাউকে খুব বেশি চাপে রাখা বা ক্লান্ত করে ফেলা উচিত।’

```

সঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। কারণ এই ধরনের কন্ডিশনে পেসারদের রোটেটিং করাটাই মুখ্য। বোলারদের জন্য এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারদের জন্য এটা খুব সহজ হয় না, তবু দরকার। রোটেশন গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আইসিসি টুর্নামেন্টের আগে। এটা বিশেষ করে যারা ছন্দে নেই, তারা কিছুটা প্রয়োজনীয় খেলার সময়ে পায়, যেটা তাদের সাহায্য করে।’

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে যে ভারতীয় দলের একটা শক্তিশালী দাপট দেখা যাবে সেই বিষয়টি নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, কারণ যে ধরনের এবং যে লেভেলের ক্রিকেট ভারতীয় দল খেলছে তা প্রশংসার যোগ্য।