বাবা খেলতেন ব্যাঙ্গালোরে,ছেলে কিভাবে নিউজিল্যান্ডের হিরো হলেন,জানুন রাচিন রবীন্দ্রর লড়াই !

নিঃশব্দে ভারতের মাটিতে শুরু হয়ে গিয়েছে ওডিআই বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয় গতবারের দুই ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই গতবারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে যাত্রা শুরু কলন কিউয়িরা। এই ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ডেভন কনওয়ে এবং রাচিন রবীন্দ্র। এই দুই ব্যাটারের পার্টনারশিপে ভর করে নিউজিল্যান্ড প্রথম ম্যাচ জিতে। একাধিক রেকর্ডও গড়েন এই দুই ব্যাটার। বিশেষ করে তাদের পার্টনারশিপ নজর কেড়েছে প্রত্যেকের।

ডেভন কনওয়ে নিউজিল্য়ান্ড দলের হয়ে অনেক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। রাচিন রবীন্দ্রও তাই। অবশ্য নিউজিল্যান্ডের তরুণ ব্যাটার এই প্রথমবার ওডিআই বিশ্বকাপ খেলছেন। অভিষেক ম্যাচেই শতরান করে দলকে জিতিয়েছেন। কিন্তু এই তরুণ কিউয়ি ব্যাটারের পরিচয় জানলে অবাক হতে আপনি বাধ্য। বলে রাখা ভালো রাচিন রবীন্দ্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। তাঁর নাম দেখে ভারতীয় ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু তাঁর এই নামের পিছনে একটি রহস্য রয়েছে। তাও আবার ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত।

```

রাচিন রবীন্দ্রর বাবা রবি কৃষ্ণমূর্তি পেশায় সফটওয়ার আর্কিটেক্ট। নিউজিল্যান্ডে চলে যাওয়ার আগে বেঙ্গালুরুতে ক্লাব ক্রিকেট খেলতেন তিনি। বেঙ্গালুরুতেই জন্ম হয়েছে রবীন্দ্রর বাবার। তিনি আবার সচিন তেন্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের বড় ভক্ত। যদি তিনি ক্রিকেটকে পেশা হিসাবে বেঁছে নিতে পারেননি। কিন্তু তাঁর ছেলে পেরেছেন। কর্মসূত্রে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে চলে যান রবীন্দ্রর বাবা। সেখানেই থাকতে থাকেন তিনি। ওয়েলিংটনের জন্ম হয় রবীন্দ্রর। সেখানেই বড় হয়ে ওঠা। তারপর নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব।

রাচিন রবীন্দ্র এই নামের মধ্যে ভারতীয় দুই কিংবদন্তির ছোয়া রয়েছেন। রাহুল দ্রাবিড় এবং সচিন তেন্ডুলকরের নামকে ব্যবহার করা হয়েছেন। রাহুলের ‘রা’, আর সচিনের থেকে ‘চিন’ এই দুই কিংবদন্তির নাম ব্যবহার করে করা হয়েছে রাচিন। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর বাবা যে কতটা বড় ভক্ত দুই কিংবদন্তির তা প্রকাশ পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতে থাকাকালীন তিনি ক্লাব ক্রিকেট খেললেও দেশের হয়ে বা রাজ্যের হয়ে খেলতে পারেননি।

```

দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন তাঁর ছেলেকে দেখাতে থাকেন তিনি। রাচিনও বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করেন। বর্তমানে তিনি নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই শতরান করেছেন। সেই সঙ্গে গড়েছেন একাধিক রেকর্ডও। ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটার হয়ে ওঠার সব রকম রসদ মজুত রয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সমস্ত ক্রিকেট ভক্তদের রীতিমতো অবাক করে দিয়েছেন তার এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সে এবং সারা বিশ্ব জুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।