নতুন ইতিহাস গড়ে এবার সারা বিশ্বের সবথেকে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ভারত!

বিগত একটা লম্বা সময় ধরে সারা বিশ্বে চীন তাদের সস্তা জিনিসপত্র দিয়ে একটা একচেটিয়া ব্যবসা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই একচেটিয়া ব্যবসা ভারতে করতে গিয়ে বর্তমান মুহূর্তে কঠিন সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে চীনা কোম্পানিগুলিকে। তার মূলত কারণ হলো ভারত সরকার এমন বেশ কিছু নিয়ম এনেছে যেগুলিতে ভারত সরকার চেষ্টা করছে যাতে দেশীয় কোম্পানিগুলি চীনা কোম্পানিদের মোকাবেলা করতে পারে, তার মূল কারণ ভারত আত্মনির্ভর হতে চায় আর সেই কারণে ভারতেই বিশ্বের সবথেকে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হচ্ছে। ঠিক কোন কোন জায়গায় ভারত নিজের আধিপত্য বিস্তার করবে?

আত্মনির্ভর হওয়াটাই ভারতের লক্ষ্য। ভারতকে ম্যানুফ্য়াকচারিং হাবে পরিণত করতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উজবেকিস্তানের সমরখন্দে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে শুক্রবার এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তা করতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মেক ইন ইন্ডিয়ার বিষয়েও জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ নিয়ে এসসিও সামিটে মোদী বলেছেন…. “কোভিড-১৯ অতিমারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠছে বিশ্ব। কোভিড এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খল ধাক্কা খেয়েছে। আমরা চাই ভারতকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে রূপান্তরিত করতে। ‘

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন সব সেক্টরে উদ্ভাবনীকে আমরা সাহায্য করি।আজ আমাদের দেশে ৭০ হাজারের বেশি স্টার্ট আপ এবং ১০০ ইউনিকর্ন রয়েছে। আমরা জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেলে জোর দিয়েছি।”বিশ্বের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে ভারত অন্যতম হওয়ায় তিনি গর্বিত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাডিশনাল মেডিসিনের উপর কাজের জন্য ভারত উদ্যোগ নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে মোদী বলেছেন, “এ বছর ভারতের অর্থনীতির বার্ষিক বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৫ শতাংশ। পৃথিবীর বৃহৎ অর্থনীতিদের মধ্য়ে ভারতের অর্থনীতি সবথেকে দ্রুত বাড়ছে। এতে আমি গর্বিত।” ট্রাডিশনাল মেডিসিনের জন্য এসিসিও দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে মোদীর কথায়।

প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে বলেছেন, “মেডিক্যাল এবং ওয়েলনেস পর্যটনের জন্য ভারত বিশ্বের মধ্যে সবথেকে লাভজনক দেশ। ট্রাডিশনাল মেডিসিনের জন্য এসসিও দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো দরকার।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বক্তৃতা দিয়েছেন। ভূকৌশলগত সম্পর্কের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে ওই সম্মেলনে।

পাশাপাশি এসসিও অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির মধ্য়ে কী ভাবে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে মোদী বলেছেন, “সমরখন্দের এসসিও সম্মেলনে কোভিড পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষত কোভিড পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে জোরদার করতে সাহায্য করবে।”