ভারতকে নিয়ে কুৎসা রটানো পাক বোর্ডের(PCB) প্রধান নাজম শেঠি হারালেন নিজের সব ক্ষমতা!

বেশ কিছুদিন ধরে এশিয়া কাপ এবং ভারতের মাটিতে হতে চলা বিশ্বকাপকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরে। ভারতীয় দল যে কোনোভাবেই টেরোরিস্টদের জন্ম ঘাঁটি পাকিস্তানি যাবে না সেই বিষয়টা পরিষ্কার, অথচ পাকিস্তান বোর্ড ভাবছিল কোন ভাবে ভারতকে চাপ দিয়ে এশিয়া কাপ খেলাতে নিজেদের দেশে নিয়ে যাবেই, এমনকি পাকিস্তান বোর্ডের তরফ থেকে বারংবার হুমকি এসেছে ভারত যদি এশিয়া কাপে না যায় তাহলে নাকি তারা বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না, এই সমস্ত ডামাডোলের মধ্যে এবার নিজের সমস্ত ক্ষমতা হারাতে বাধ্য হলেন পাক বোর্ডের প্রধান নাজম শেঠি।

নাজাম শেঠি পরবর্তী বোর্ড চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে পিসিবি প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। নাজাম শেঠি একটি অন্তর্বর্তী কমিটির প্রধান ছিলেন, যারা গত ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা করছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ ২১ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল।সম্প্রতি এটা মনে করা হয়েছিল যে, অন্তর্বর্তী কমিটির মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পরেও নাজাম শেঠি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং যথাযথ ভাবে বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবেন। তবে জাকা আশরাফের ফেরার বিষয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা বেড়েছে।

```

বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আশরাফের প্রত্যাবর্তন এখনও আনুষ্ঠানিক না হলেও, নাজাম শেঠি আগেভাগেই সরে দাঁড়ালেন।নাজাম শেঠি টুইট করে লিখেছেন, ‘আমি আসিফ জারদারি এবং শেহবাজ শরিফের বিবাদের মধ্যে পড়তে চাই না। এই ধরনের অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা পিসিবির জন্য ভালো নয়। এই পরিস্থিতিতে আমি পিসিবির চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী হতে চাই না। সব স্টেকহোল্ডারদের জন্য শুভকামনা।’এর আগে শুক্রবার লাহোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়েও তিনি বলেছিলেন, ‘পিসিবি চেয়ারম্যান পদে জল্পনা-কল্পনার কথা শুনেছি। আমি বিষয়টিতে প্রবেশ করতে চাই না। কারণ এটি পৃষ্ঠপোষকদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। পিসিবি-র পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং জারদারি সাহেব যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমি সেটা মেনে নেব।’

নাজাম শেঠি আসলে চেয়ারম্যানের আসন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করছেন। শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং পিসিবি-র পৃষ্ঠপোষক। আসিফ আলি জারদারি, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সদস্য এবং দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। তিনি বর্তমান সরকারের একজন বিশিষ্ট জোটের অংশীদার এবং আশরাফকে এই পদের জন্য তাঁর দলের লোক বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তান ক্রিকেটে ঐতিহ্যগত ভাবে পিসিবি-র বোর্ড অফ গভর্নরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করা হয়। আর প্রধানমন্ত্রী সাধারণত বোর্ডের চেয়ারম্যান বেছে নেন। পিসিবি চেয়ারম্যান হওয়ার কথা শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের একজনের। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, পিপিপি জোর দিয়ে বলেছে যে, যেহেতু তারা পাকিস্তানের ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে, তাই আন্তঃপ্রাদেশিক সমন্বয় মন্ত্রকের (আইপিসি) মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনীত করার অধিকার রয়েছে।

```

যদিও প্রধানমন্ত্রী এখনও দু’টি নাম মনোনীত করেননি। তবে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর দাবি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী মোস্তফা রামদে সহ দু’জনই মনোনীত হবেন। দু’জনকেই পিসিবি-র ১০-সদস্যের বোর্ড অফ গভর্নর (বিওজি)-এ যুক্ত করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তিন বছরের জন্য পিসিবি চেয়ারম্যান হিসেবে এক জনকে মনোনীত করতে পারেন। সেই সম্ভাবনাই রয়েছে। আশরাফ নির্বাচিত হওয়ার জন্য অপ্রতিরোধ্য ভাবে ফেভারিট। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।