মাওবাদীরা হু’মকি দিয়ে টাকা আদায় করছিল! তদন্ত করতেই, চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের

মাওবাদীদের নাম করে হুমকি চিঠি ও পোস্টার দেওয়ার অভিযোগ উচেছিল। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তাঁদেরকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ।ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, একটি পিস্তল, ৩৫ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এমন তথ্যই জানালেন ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা। কিন্তু কারা করছিল এই কাজ, সত্যিই কি মাওবাদীরা? সেটা জেনে অবাক হচ্ছে পুলিশ ।

ভীষণ অবাক করা ব্যাপার যে এই ঘটনায় গ্রেফতার এক পুলিশ কর্মী সহ ছ’জন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা হলেন জাম্বনী থানার হোমগার্ড বাহাদুর মান্ডি, শংকর মণ্ডল, মলয় কর্মকার,মহেন্দ্র হাঁসদা, বাবলু দুলে, বাবুলাল সোরেন। এদের প্রত্যেককে নিজেদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এরা মাওবাদী ইনচার্জ সল্টলেক নামে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ টাকার দাবি করে হুমকি চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। মাওবাদীদের নাম করে একাধিক পোস্টারও দেওয়া হয়েছিল। সবটাই করা হয়েছিল মাও আতঙ্ক ছড়িয়ে টাকা তোলার জন্য। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে…

এই সমস্থ কিছুর মাস্টার-মাইন্ড ছিলেন হোমগার্ড বাহাদুর মান্ডি।অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনিবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আরও একজন জড়িত রয়েছে। তাকেও খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে। মাওবাদীদের নাম করে এরাই বনধ ডেকে পোস্টার দিয়ে জঙ্গলমহলকে ফের অশান্ত করার চেষ্টা করেছিল। যারাই দোষ করবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। নির্দোষ লোককে ধরা হবে না। তাই পুলিশকর্মী দোষ করেছে বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

বস্তুত, এর আগে মাওবাদী পোস্টার দেওয়ার অভিযোগে লালগড় থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন আরও এক পুলিশ কর্মী। তিনি পুলিশের স্পেশাল হোমগার্ড ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী। বিগত কয়েক মাস ধরেই ‘ভয়’ বাড়ছিল জঙ্গলমহল, ঝাড়গ্রাম সংলগ্ন এলাকায়। বারংবার সেখানেও মাওবাদী পোস্টার পড়ছিল। এমনকী কয়েকদিন আগে মাওবাদীদের নাম করে দেদার তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল ঝাড়গ্রামে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, গত শনিবার ১৮ জুন, বিনপুর-২ ব্লকের তিনজন হুমকি চিঠি পান। লাল কালিতে লেখা সেই চিঠি। চিঠির প্রেরক নিজেকে মাওবাদী সংগঠনের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে ২ লক্ষ টাকা চান মাওবাদী পার্টি তহবিলের জন্য।

শাসকদল সূত্রে খবর, এই তিনজনের একজন আবার পঞ্চায়েত সদস্য। বাকি দু’জন এঁড়গোদা পঞ্চায়েত এলাকার শিয়ারকেত্যা এবং ভুরসাতোরা গ্রামের দুই রেশন ডিলার। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছেন ওই তিনজনের পরিবার। সূত্রের খবর, তিনজনেই জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন।