অতিরিক্ত গতি বা ঝিমুনি নয়,ঋষভের দুর্ঘটনার আসল কারণ ফাঁস করলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী!

অতিরিক্ত গতি অথবা ঝিমুনি নয়। মদ্যপ অবস্থাতেও ছিলেন না ঋষভ পন্থ। তাহলে কীভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন ভারতীয় উইকেটকিপার? রবিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ জানালেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী।ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে বছরের প্রথম দিনটা হাসপাতালেই কাটছে ঋষভ পন্থের (Rishabh Pant)। এদিন তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে দেরাদুনের ম্যাক্স হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন পুষ্কর সিং ধামী। তবে যে কারণ তিনি সেখান থেকে জানলেন তা অত্যন্ত চিন্তার এবং দুর্ভাগ্যের।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন ঋষভ এর মায়ের সঙ্গেও। এরপর বেরিয়ে এসে তিনি জানান ঠিক কারণে গত ৩০ ডিসেম্বর দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ড যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ২৫ বছরের ভারতীয় তারকা। ধামী জানান, যে রাস্তা দিয়ে পন্থ যাচ্ছিলেন, তাতে খানা-খন্দ, গর্ত ছিল। তা থেকে গাড়িটিকে বাঁচাতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারেন পন্থ। আর তারপরই দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে গাড়িটি। কোনওক্রমে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভেঙে বেরিয়ে এসে প্রাণে বাঁচেন তিনি।ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড পুলিশ জানিয়ে দিয়েছিল, পন্থের গাড়িটি গতির সীমা লঙ্ঘন করেনি।

আশেপাশের ১০টি স্পিড ক্যামেরা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। কোনওটিতেই পন্থের গাড়ির অতিরিক্ত গতির প্রমাণ মেলেনি। পাশাপাশি পন্থ যে মদ্যপ ছিলেন না, তা স্পষ্ট করতে একাধিক যুক্তিও দেন উত্তরাখণ্ড পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক। সোশ্যাল মাধ্যমে আবার অনেকে দাবি করেছিলেন, হয়তো গাড়ি চালাতে গিয়ে ঘুম পেয়ে গিয়েছিল পন্থের। তার জেরেই দুর্ঘটনা। কিন্তু ধামীর বক্তব্যে ঝিমুনির তত্ত্বও খারিজ হয়ে গেল। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু করেছে জাতীয় সড়ক অথরিটি (NHAI)।

চাপা দেওয়া হয়েছে ‘ঘাতক’ গর্তগুলিকেও।এদিকে, দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট সংস্থার ডিরেক্টর শ্যাম শর্মার গলাতেও ধামীর সুর। তিনি জানান, “আপাতত স্থিতিশীল পন্থ। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। বিসিসিআইয়ের চিকিৎসকরাও তার শারীরিক অবস্থার খেয়াল রাখছে। আপাতত এখানেই রাখা হবে তাকে। ও নিজেই জানিয়েছে গর্তের হাত থেকে গাড়িটিকে বাঁচাতেই ঘটে দুর্ঘটনা।”

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, যাঁরা ভেবেছেন পন্থের সঙ্গে দেখা করবেন, তাঁদের আপাতত না আসাই ভাল। কারণ সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।